India US Tariff News: মার্কিন কোর্টে বাতিল ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ভারতের স্ট্র্যাটেজি কী? মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রক

ট্রাম্পের 'মুড সুইংয়ে' উদ্বিগ্ন আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টও। আর সেই কারণেই শেষমেশ ট্যারিফ কত দাঁড়াবে, তাই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে মার্কিন আদালত। আর তারপরেই এই বিষয়ে মুখ খুলল ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 

Advertisement
মার্কিন কোর্টে বাতিল ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ভারতের স্ট্র্যাটেজি কী? মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রককেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 
হাইলাইটস
  • ট্রাম্পের 'মুড সুইংয়ে' উদ্বিগ্ন আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টও।
  • শেষমেশ ট্যারিফ কত দাঁড়াবে, তাই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে মার্কিন আদালত।
  • তারপরেই এই বিষয়ে মুখ খুলল ভারত।

ট্রাম্পের 'মুড সুইংয়ে' উদ্বিগ্ন আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টও। আর সেই কারণেই শেষমেশ ট্যারিফ কত দাঁড়াবে, তাই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে মার্কিন আদালত। আর তারপরেই এই বিষয়ে মুখ খুলল ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা একাধিক ট্যারিফকে 'অবৈধ' ঘোষণা করেছে। এই রায়ের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক জানায়, ট্যারিফ সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপ এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং সেই বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্যে নজরে রাখা হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, 'আমরা ট্যারিফ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নোট করেছি। আমেরিকার প্রশাসনের তরফে ঘোষিত নতুন পদক্ষেপগুলিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বোঝার চেষ্টা চলছে।'

শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে  'ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট' (IEEPA) অনুযায়ী ট্যারিফ চাপানো বৈধ নয়। এই আইনের ভিত্তিতেই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের মতো একাধিক দেশের উপর অতিরিক্ত ট্যারিফ চাপিয়েছিল। আদালতের এই রায়ে সেই ট্যারিফের আইনি ভিত্তি কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

এর ফলে ভারতের উপর আগে ধার্য করা ১৮ শতাংশ 'রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ' কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পুরনো নিয়ম অনুযায়ী, 'মোস্ট ফেভার্ড নেশন' হিসাবে এই ট্যারিফ প্রায় ৩.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

নতুন নির্দেশে ফের ট্যারিফ চাপানোর সিদ্ধান্ত
তবে আদালতের রায়ের পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেন, সব দেশের আমদানির উপর ১০ শতাংশ নতুন ট্যারিফ রেট বসানো হবে। ভারতও এই তালিকার মধ্যে রয়েছে। জানা গিয়েছে, আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে।

ট্রাম্প আইনের একটি বিশেষ ধারা, 'সেকশন ১২২'-এর সাহায্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই আইনের অধীনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ ১৫০ দিনের জন্য জারি করতে পারেন। পরে এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

Advertisement

ভারতের এর কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে ভারতের রফতানি খাতে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইস্পাত, টেক্সটাইল, রাসায়নিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন ট্যারিফের ফলে খরচ বাড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতের নীতি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক আলোচনার উপর।

ভারত সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার আদালতের রায় এবং তার পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর অর্থনীতি মহলের। 

POST A COMMENT
Advertisement