India On Dawood : 'লাদেন যেখানে লুকিয়ে ছিল, সেখানেই দাউদ', রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিরাট দাবি ভারতের

রাষ্ট্রসংঘের তালিকায় দাউদের ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ করে রঘু পুরি বলেন, যে দেশে আল কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল, রাষ্ট্রসংঘের নথি অনুযায়ী দাউদও সেই দেশেই রয়েছে।

Advertisement
'লাদেন যেখানে লুকিয়ে ছিল, সেখানেই দাউদ', রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিরাট দাবি ভারতের লাদেন ও দাউদ
হাইলাইটস
  • আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে পাকিস্তানকে ফের নিশানা করল ভারত
  • রিপোর্টের কয়েকটি অংশে স্পষ্ট পক্ষপাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভারতীয় কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে পাকিস্তানকে ফের নিশানা করল ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরি অভিযোগ করেছেন, কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিনিধির রিপোর্টে তথ্যগত ভুল রয়েছে। ২০০৩ সালে আল কায়দার সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে দাউদের নাম তালিকাভুক্ত করার ঘটনাকে রিপোর্টে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেন তিনি। ভারতের বক্তব্য, ২০০৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের তালিকায় নাম ওঠার অনেক আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল দাউদ। ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ-সহ একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় সে এখনও ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অভিযুক্ত।

বুধবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে এক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন রঘু পুরি। সেখানেই দাউদ ইব্রাহিম এবং তার অপরাধচক্র ডি-কোম্পানির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ভারতীয় কূটনীতিক।

দাউদকে নিয়ে রিপোর্টে তথ্যগত ভুলের অভিযোগ

রঘু পুরি বলেন, 'এই সংগঠন (ডি-কোম্পানি) এবং তালিকাভুক্ত তার নেতা দাউদ ইব্রাহিম ১৯৯৩ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় ভারতে ওয়ান্টেড।' তাঁর বক্তব্য, ২০০৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের তালিকায় নাম ওঠার অনেক আগেই ভারত ছেড়ে পালিয়েছিল দাউদ। দেশের বাইরে থাকাকালীনই আল কায়দা এবং ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে তাকে তালিকাভুক্ত করা হয় বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রসংঘের তালিকায় দাউদের ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ করে রঘু পুরি বলেন, যে দেশে আল কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল, রাষ্ট্রসংঘের নথি অনুযায়ী দাউদও সেই দেশেই রয়েছে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। রঘু পুরির এই মন্তব্যে পাকিস্তানের দিকেই ইঙ্গিত। 

উল্লেখ্য, দাউদ ইব্রাহিমকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করে আসছে ভারত। ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত দাউদকে প্রত্যর্পণের দাবিও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ২০১৪ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছিলেন, দাউদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে যথেষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

Advertisement

রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

বিশেষ প্রতিনিধির রিপোর্টের সমালোচনা করে রঘু পুরি অভিযোগ করেন, তাতে বেশ কিছু তথ্যগত অসংগতি রয়েছে। তাঁর দাবি, সদস্য দেশগুলির সামনে রিপোর্টটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন সিদ্ধান্ত আগে থেকেই চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টের কয়েকটি অংশে স্পষ্ট পক্ষপাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভারতীয় কূটনীতিক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি নিরপেক্ষতা ও সততা বজায় রাখার উপর জোর দেন। রঘু পুরির বক্তব্য, এমন একটি সংস্থার ক্ষেত্রে এই ধরনের বিষয় আরও দুর্ভাগ্যজনক, যার গ্রহণযোগ্যতা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

'মানবাধিকারকে সন্ত্রাসের আড়াল করা যায় না'

সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার জন্য মানবাধিকারের যুক্তি ব্যবহার করারও বিরোধিতা করেন রঘু পুরি। তাঁর কথায়, 'সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের মধ্যে মানবাধিকার এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কাঠামোকে নিজেদের অপকর্মের সাফাই হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'মানবাধিকারের কাঠামো সন্ত্রাসের অপরাধীদের এবং উগ্রপন্থা ও চরমপন্থার প্রচারকদের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদকে কখনওই ন্যায্য বলে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।'

রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধির মন্তব্যের জবাব দিতেও সরব হন ভারতীয় কূটনীতিক। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে তিনি সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে করা মন্তব্য বলে অভিহিত করেন। ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে রঘু পুরি বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর কথায়, এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অংশ ছিল, রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

মুম্বইয়ের অপরাধজগৎ থেকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ

একসময় মুম্বইয়ের অপরাধজগতের অন্যতম প্রভাবশালী নাম ছিল দাউদ ইব্রাহিম। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে তার উত্থান ঘটে। পরে চোরাচালান, তোলাবাজি, অবৈধ বাণিজ্য এবং সংগঠিত অপরাধের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে সে। ডি-কোম্পানি নামে পরিচিত তার অপরাধচক্রের কার্যকলাপ ভারতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৯৩ সালের মার্চে মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর দাউদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৭০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দাউদের এবং তার চোরাচালানের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিস্ফোরক ও অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল।

২০০৩ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আল কায়দা, ওসামা বিন লাদেন এবং তালিবানের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে দাউদকে তালিকাভুক্ত করে। সেই তালিকাভুক্তি এবং তার অবস্থান নিয়ে এবার রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে রিপোর্টের তথ্যের বিরোধিতা করল ভারত।
 

POST A COMMENT
Advertisement