বেশ কিছু আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আমেরিকান জিনিস এবার আরও সস্তায় পাবেন ভারতীয়রা। অন্তর্বর্তী ভারত-আমেরিকা ট্রেড ডিলের ফ্রেমওয়ার্কে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ফলে খাদ্যপণ্য থেকে শিল্পসামগ্রী; নানা ক্ষেত্রেই দামের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। শুক্রবার গভীর রাতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অন্তর্বর্তী ট্রেড ডিলের কাঠামো প্রকাশ করা হয়। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আমেরিকাও একাধিক ভারতীয় পণ্যের উপর শূন্য শুল্ক আরোপ করছে। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। এর ফলে দেশের শিল্পক্ষেত্র উপকৃত হবে। ভারতীয় পণ্যের জন্যও বড় বাজার খুলে যাবে। তাঁর কথায়, প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার এখন ভারতের সামনে উন্মুক্ত।
এই চুক্তির ফলে ভারতে আমদানি হওয়া কিছু মার্কিন পণ্য সস্তা হতে পারে। কৃষি ও খাদ্যপণ্যের মধ্যে ড্রায়েড ডিস্টিলার্স গ্রেন (DDGs), লাল জোয়ার, ট্রি-নাটস যেমন আখরোট ও পেস্তা, সয়াবিন তেল, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, ওয়াইন ও স্পিরিটসের উপর শুল্ক কমানো হয়েছে বা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি খুচরো বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে আখরোট ও পেস্তার মতো দামি, ইমপোর্টেড বাদামের দাম কমতে পারে। একই ভাবে আমেরিকার ওয়াইন ও উচ্চমানের মদের দামও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পশুখাদ্যে ব্যবহৃত ড্রায়েড ডিস্টিলার্স গ্রেন এবং রেড সরঘামের উপর শুল্ক কমায় পশুখাদ্যের বাজারেও দামের পরিবর্তন হতে পারে।
শুধু খাদ্যপণ্য নয়, শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে। শক্তি, বিমান ও বিমানযন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু এবং কোকিং কয়লার মতো পণ্যের আমদানিতে শুল্ক কমার ফলে খরচ কমতে পারে।
তবে এই ট্রেড ডিলে ভারতের প্রধান কৃষিপণ্যগুলিকে তালিকার বাইরেই রাখা হয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্যও চুক্তির আওতায় নেই।