
Narendra Modi,Donald Trumpইন্ডিয়া ফার্স্ট। তাই যে-ই সস্তায় ভাল তেল দেবে, তার থেকেই কেনা হবে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা নিয়ে এমনটাই বলল ভারত। প্রাপ্যতা এবং বাণিজ্যিক লাভের বিষয়টি নিশ্চিত হলেই তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানাল বিদেশ মন্ত্রক।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। জানান, ভারত তার জ্বালানি সাপ্লাইয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে সব সময়ই স্ট্র্যাটেজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, 'তেলের প্রাপ্যতা এবং কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি নিশ্চিত হলেই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।' অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে লাভজনক হলে তবেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির পথে এগোবে ভারত।

জ্বালানি নিরাপত্তায় স্ট্র্যাটেজিক ব্যালেন্স
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। তাই বিভিন্ন উৎস থেকে মিলিয়ে মিশিয়ে জ্বালানি কেনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা, দাম এবং সরবরাহ; সব কিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। কোনও রাজনৈতিক চাপ নয়। বরং অর্থনৈতিক যুক্তি ও জাতীয় স্বার্থই ভারতের মূল অগ্রাধিকার।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে অগ্রগতি
এ দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মুখপাত্র। তিনি জানান, দুই দেশ একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি তৈরির জন্য যৌথভাবে কাজ করছে। সেই আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী সপ্তাহেই ভারতীয় প্রতিনিধিদল আমেরিকা সফরে যাবে।
বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এই সম্ভাব্য চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়তে পারে।
এই পুরো ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট। ভারত তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির নীতি অনুসরণ করছে। একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া; সব ক্ষেত্রেই কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখছে নয়াদিল্লি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক শক্তির প্রতিফলন।