
লন্ডনের বিলাসবহুল একটি আবাসিক টাওয়ার থেকে পড়ে এক ভারতীয় দম্পতি ও তাঁদের ৯ বছরের ছেলের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২৭ মে ঘটনাটি ঘটে লন্ডনের একটি ৩৬ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি একটি ‘আত্মহত্যা চুক্তি’ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাকেশ পাই (৪৭) এবং অদিতি পারালকার (৪৬) ও তাঁদের ছেলে সিড (৯)। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকরা আর কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই বলে জানিয়ে দেওয়ার পরই এই দম্পতি চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনাটি ঘিরে ধোঁয়াশাও রয়েছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র ও বন্ধুরা ‘আত্মহত্যার চুক্তি’–র তত্ত্বকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও জটিল পারিবারিক পরিস্থিতির পরিণতি।
লন্ডনের বারমন্ডসি ও ওল্ড সাউথওয়ার্ক এলাকার লেবার এমপি নিল কয়েল ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন এমন কিছু বাসিন্দাও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম থেকেই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, যা পরিবারকে গভীর মানসিক ও মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দম্পতি ২০০০-এর দশকে মুম্বই থেকে লন্ডনে যান এবং সেখানে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হন। রাকেশ পাই কাজ করতেন আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে এবং অদিতি পারালকার ছিলেন নির্মাণ খাতে একটি উচ্চপদস্থ কর্মী।
তাদের সন্তান সিড একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন ছিল। কিডনির সমস্যার কারণে সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও পারত না। মা অদিতি বাড়িতেই সন্তানের যত্ন ও শিক্ষার দায়িত্ব পালন করতেন, যা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে পরিবারটি সন্তানের উন্নত চিকিৎসার আশায় প্রায় ছয় বছর আগে মুম্বাই ফিরে গিয়েছিল, তবে চিকিৎসা আশানুরূপ না হওয়ায় তারা আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসে।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত মৃত্যু’ হিসেবে তদন্ত করছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।