Strait of Hormuz Shipping: স্বস্তির খবর! এবার হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও একটি তেল বোঝাই জাহাজ

স্বস্তির খবর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা বন্দর থেকে নিরাপদে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিল ভারতীয় পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার। 'জগ লড়কি' নামের ওই জাহাজে প্রায় ৮০,৮০০ টন মুরবান অপরিশোধিত তেল রয়েছে।

Advertisement
স্বস্তির খবর! এবার হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও একটি তেল বোঝাই জাহাজStrait of Hormuz: এই নিয়ে এটিই চার নম্বর জাহাজ যা এই উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধপ্রভাবিত অঞ্চল থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসছে।
হাইলাইটস
  • ফুজাইরা বন্দর থেকে নিরাপদে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিল ভারতীয় পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার।
  • 'জগ লড়কি' নামের ওই জাহাজে প্রায় ৮০,৮০০ টন মুরবান অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
  • মধ্যপ্রাচ্যের জটিলতার মধ্যেও জাহাজটি নিরাপদে যাত্রা ভারতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বস্তির খবর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা বন্দর থেকে নিরাপদে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিল ভারতীয় পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার। 'জগ লড়কি' নামের ওই জাহাজে প্রায় ৮০,৮০০ টন মুরবান অপরিশোধিত তেল রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিলতার মধ্যেও জাহাজটি নিরাপদে যাত্রা ভারতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে স্থানীয় সময় অনুযায়ী লোডিং সম্পূর্ণ করে ফুজাইরা থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। জাহাজের সব ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এই নিয়ে এটিই চার নম্বর জাহাজ যা এই উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধপ্রভাবিত অঞ্চল থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসছে।

তবে এই নৌযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। গত ১৪ মার্চ, যখন জাহাজটি ফুজাইরার সিঙ্গল পয়েন্ট মুরিং এলাকায় কাঁচা তেল লোড করছিল, সেই সময়ই ফুজাইরা তেল টার্মিনালে হামলার খবর আসে। তবুও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে জাহাজটি সফলভাবে লোডিং সম্পন্ন করে এবং সেখান থেকে নিরাপদে রওনা দেয়।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন এই সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের ওপরও তার প্রভাব পড়ছে।

এর মধ্যেই শনিবার আরও দু’টি ভারতীয় এলপিজি পরিবহণকারী জাহাজ; Shivalik এবং Nanda Devi; সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পার করেছে। এই দু’টি জাহাজে মোট প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি ছিল। জানা গিয়েছে, ‘শিবালিক’ ১৬ মার্চ Mundra Port-এ পৌঁছাবে এবং ‘নন্দা দেবী’ ১৭ মার্চ Kandla Port-এ নোঙর ফেলবে।

সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে একসময় মোট ২৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়েছিল। এর মধ্যে ২৪টি ছিল হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাংশে এবং চারটি পূর্বাংশে। পূর্বদিকে আটকে পড়া জাহাজগুলির মধ্যে ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার Jag Prakash। পরে সেই জাহাজও যুদ্ধপ্রভাবিত এলাকা পার করে নিরাপদে বেরিয়ে আসে। ওমানের সোহার বন্দর থেকে পেট্রোল নিয়ে সেটি বর্তমানে তানজানিয়ার টাঙ্গা বন্দরের দিকে এগোচ্ছে।

Advertisement

ভারত তার জ্বালানি প্রয়োজনের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট কাঁচা তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশই আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ নির্ভর। এর একটি বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ওই অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের পথও খুঁজছে ভারত। ইতিমধ্যে রাশিয়ার মতো দেশ থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানি করে কিছুটা ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।

পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে সক্রিয় রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকার জানিয়েছে, জাহাজরানি সংক্রান্ত দপ্তর এবং বিদেশ মন্ত্রক একযোগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও নিয়মিত সমন্বয় রাখা হচ্ছে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরের পশ্চিম অংশে প্রায় ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে, যেখানে ৬০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। তাঁদের নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। 

POST A COMMENT
Advertisement