Economy News: বড় খবর! শীঘ্রই এই দেশের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে ভারত, ঘুম উড়বে ট্রাম্পের

আমেরিকা যে খুব তাড়াতাড়ি থামবে না, তা স্পষ্ট। আর সেই কারণেই এবার 'প্ল্যান-বি'-র পথে হাঁটল ভারত। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে একটি বড়সড় চুক্তির ঘোষণা হতে পারে।

Advertisement
বড় খবর! শীঘ্রই এই দেশের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে ভারত, ঘুম উড়বে ট্রাম্পের আগামী সপ্তাহেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে একটি বড়সড় চুক্তির ঘোষণা হতে পারে।
হাইলাইটস
  • আমেরিকা যে খুব তাড়াতাড়ি থামবে না, তা স্পষ্ট।
  • এবার 'প্ল্যান-বি'-র পথে হাঁটল ভারত।
  • সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে একটি বড়সড় চুক্তির ঘোষণা হতে পারে।

India’s Plan B: আমেরিকা যে খুব তাড়াতাড়ি থামবে না, তা স্পষ্ট। আর সেই কারণেই এবার 'প্ল্যান-বি'-র পথে হাঁটল ভারত। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে একটি বড়সড় চুক্তির ঘোষণা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে আলোচনা চলছিল। এবার সেই আলোচনা একেবারেই ফাইনাল স্টেজে। আগামী ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভারত-EU শীর্ষ সম্মেলন। সেই সময়ই এই ডিল প্রকাশ্যে আসতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডার লেয়েন ইতিমধ্যেই একে 'মাদার অফ অল ডিলস' বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে এটা যে কত গুরুত্বপূর্ণ, তা সেই ইঙ্গিতেই স্পষ্ট।

এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তার প্রভাব শুধু ভারত বা ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ প্রভাবিত হবেন। বিশ্বজুড়ে জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই এফটিএ-র অংশ হয়ে যাবে। মূলত প্রোডাক্ট, সার্ভিস এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত নিয়মকানুন এই চুক্তির আওতায় থাকবে। তবে এখনও দু'টি জিনিস বাকি। প্রথমত, ইইউ কাউন্সিলের অনুমোদন। দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের স্বীকৃতি। তারপরেই চুক্তি কার্যকর হবে। আর সেটা হতেই এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের নবম এফটিএ হতে চলেছে। 

সূত্রের খবর, অন্যান্য চুক্তির মতোই ভারত-ইইউ এফটিএ-তেও কৃষি এবং ডেয়ারি সেক্টরকে বাইরে রাখা হচ্ছে। শুল্ক ছাড় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইছে ৯৫ শতাংশের বেশি পণ্যে ট্যারিফ তুলে দিতে। অন্য দিকে, ভারত সেই সীমা ৯০ শতাংশের আশপাশে রাখতে আগ্রহী।

এই ডিল হলে ভারতের কী লাভ?
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত ও ইইউ-র মধ্যে মোট বাণিজ্যের অঙ্ক ছিল প্রায় ১১.৮ লক্ষ কোটি টাকা বা ১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতের এক্সপোর্ট ছিল ৭৫.৮ বিলিয়ন ডলার এবং ইমপোর্ট ৬০.৭ বিলিয়ন ডলার। এফটিএ হলে এই রফতানি আরও দ্রুত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিষেবা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে ম্যানুফ্যাকচারিং—ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে।

Advertisement

ইউরোপে বসবাস করেন প্রায় ৪৫০ মিলিয়নের বেশি মানুষ। প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির এই বাজারে কম বা শূন্য শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে ভারত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ট্রেড ব্লকের অংশীদার হয়ে দীর্ঘমেয়াদে এক্সপোর্ট, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায় বড় সুবিধা পেতে পারে নয়াদিল্লি। অনুমান, এই চুক্তির পর ইইউ-র সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের অঙ্ক ১৩৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এফটিএ কার্যকর হলে ইউরোপে ভারতীয় পণ্যের উপর ইমপোর্ট ডিউটি অনেকটাই কমবে বা উঠে যাবে। ইউরোপ যে ধীরে ধীরে আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তার ইঙ্গিতও মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহে ভারতের ভূমিকা বাড়তে পারে। পাশাপাশি টেক্সটাইল, রেডিমেড গার্মেন্ট, ওষুধ, চামড়া, জুতো, গয়না, আইটি এবং সার্ভিস সেক্টরের রফতানি দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই চুক্তির ফলে ইউরোপ থেকেও কম দামে কাঁচামাল আসতে পারে ভারতে। তাতে উৎপাদন খরচ কমবে। নতুন কারখানা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। বর্তমানে ইইউ-তে গড় ট্যারিফ প্রায় ৩.৮ শতাংশ। গার্মেন্ট ও জুয়েলারির মতো ক্ষেত্রে তা প্রায় ১০ শতাংশ। এফটিএ হলে এই শুল্ক কমবে বা উঠবে, ফলে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।

অন্য দিকে, ইউরোপীয় দেশগুলিও ভারতের বিশাল ও দ্রুত বেড়ে ওঠা ভোক্তা বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। এখন ইইউ থেকে ভারতে আসা পণ্যে গড়ে ৯.৩ শতাংশ ট্যারিফ দিতে হয়। এফটিএ হলে অটোমোবাইল, মেশিনারি, বিমান, রাসায়নিক এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এই ডিলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো। ইউরোপের জন্য ভারত হয়ে উঠতে পারে এক বিশ্বাসযোগ্য সাপ্লাই চেন পার্টনার। ইলেকট্রিক ভেহিকল, রিনিউএবল এনার্জি এবং গ্রিন হাইড্রোজেনের মতো ক্ষেত্রেও নতুন ফান্ডিং আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকার অর্থনীতি তুলনায় ধীর গতিতে বাড়ছে। তার উপর রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশীল অর্থনীতির দেশ ভারতের দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ। স্টার্টআপ ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় বিনিয়োগ থেকে লাভবান হতে পারে ভারত। সব মিলিয়ে, প্ল্যান-বি-তে ভর করেই এক ঢিলে দুই পাখি মারার প্রস্তুতি নয়াদিল্লির।

POST A COMMENT
Advertisement