হরমুজ প্রণালী পার করতে জাহাজ থেকে ১৯ কোটি 'চাঁদা' নিচ্ছে ইরানমধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের জেরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণের মুখে পড়েও পাল্টা দিতে ছাড়ছে না ইরান। যুদ্ধ শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে ইরান। ফলে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সিস্টেম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দাবি করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিতে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার চার্জ করছে ইরান। এক ইরানি আইনপ্রণেতাকে উদ্ধৃত করে একটি রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ইরানের সংসদের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি রবিবার এই দাবি করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে ইরানের একটি স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
লন্ডন ভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় আলাউদ্দিন এই মন্তব্য করেছে। তিনি বলেন, "যেহেতু যুদ্ধের খরচ আছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এটা করতে হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি দিতে হবে।" বোরুজের্দি বলেন, এই পদক্ষেপ ইরানের 'শক্তি'-কেও প্রতিফলিত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের যে কোনও লেনদেন শিপিং সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে চলেছে। কারণ ইরান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে এভাবে ইরানকে টাকা দেওয়া শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
আসলে গোটা বিশ্বে যে পরিমাণ তেলের চাহিদা রয়েছে, তার একটা বড় অংশ হরমুজ হয়েই যায়। বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই রুট দিয়েই। তাই এই সমুদ্রপথ বন্ধ থাকার ফলে সারা পৃথিবীতেই বাড়ছে আতঙ্ক। তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এমনকী গ্যাসের আকালও তৈরি হয়েছে। আর সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও।