আলি লারিজানির মৃত্যুমধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা ভয়ঙ্কর। থামার নামই নেই ইজরায়েল, আমেরিকা বনাম ইরান যুদ্ধ। এক পক্ষ ঘায়েল করার পর অন্য পক্ষ চুপ করে বলে থাকছে না। তারাও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। এই যেমন ইরান সরকারিভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রাণ গিয়েছে সেই দেশের অন্যতম প্রবীণ এবং প্রভাবশালী নেতা আলি লারিজানির। এই খবরটি নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। তারা স্থানীয় সংবাদপত্র সূত্রে এই খবর পেয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক দিন ধরেই লারিজানির মৃত্যু নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে চুপ ছিল সরকার। এমনকী স্থানীয় মিডিয়ায় এই বিষয়টা নিয়ে একটি বাক্য খরচ করেনি। যদিও বর্তমানে তারা লারিজানির মৃত্যু হয়েছে বলেই স্বীকার করে নিয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, কিছুদিন আগেই লারিজানির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে ইজরায়েল। তেহরানে ইজরায়েলি আক্রমণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি দাবি করা হয়, ওই আক্রমণে প্রাণ হায়িছেন বাসিজ কম্যান্ডার ঘোলামরেজা সোলেমানি।
আর শুধু ইজরায়েল নয়, এই হামলার পর সরব হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি দাবি করেন যে, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ইরানের প্রথম সারির সব নেতারা। তিনি জানান, যেই সব সিনিয়র নেতাদের কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের জন্য যুদ্ধ হচ্ছে, তাদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছে।
আর এই আক্রমণের পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাদের পক্ষ থেকে ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভ লক্ষ্য করে মিসাইল অ্যাটাক চালান হচ্ছে। এই সব মিসাইলে রয়েছে ক্লাস্টার হেড। তাই যুদ্ধ যে এখনই থামার নয়, সেটা একবারে পরিষ্কার।
কে আলি লারজানি?
ইরানের রাজনীতিতে বড় নাম আলি লারজানি। এই ব্যক্তি ইরানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রধান। তিনি ইরানের পর্লামেন্টের মুখপাত্র এবং সর্বোচ্চ নেতার খুবই কাছের মানুষ ছিলেন বলে খবর।
এই লারজানি ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন। আর তাঁর মৃত্যু যে তেহরানের পক্ষে বড় ধাক্কা, সেই কথা মেনে নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
মাথায় রাখতে হবে, ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে অনেক ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করেছে ইরান। তাদের সেনা ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। বড় বড় শহরে চলেছে হামলা। এমনকী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই প্রাণ হাারিয়েছেন।
যদিও এখনও থামতে রাজি নন ট্রাম্প। বরং তিনি হামলা চালিয়ে যেতে চান ইরানের উপর। তাই তিনি ন্যাটোর কাছে চেয়েছেন সাহায্য। যদিও সেভাবে কেউই তাঁর পাশে দাঁড়াতে রাজি হয়নি। আর তাতেই চটেছেন ট্রাম্প।