২৮ দিনেও মাথা নোয়াতে নারাজ, কোন কোন অস্ত্রের ভরসায় আমেরিকার সঙ্গে লড়ছে ইরান?

২৮ দিন ধরে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের উপর টানা হামলা চালাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই হামলায় হাজার হাজার মিসাইলের দাপটে, বহু বিল্ডিং, সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে।

Advertisement
২৮ দিনেও মাথা নোয়াতে নারাজ, কোন কোন অস্ত্রের ভরসায় আমেরিকার সঙ্গে লড়ছে ইরান?কোন কোন অস্ত্রের ভরসায় আমেরিকার সঙ্গে লড়ছে ইরান?
হাইলাইটস
  • ২৮ দিন ধরে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের উপর টানা হামলা চালাচ্ছে।
  • ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই হামলায় হাজার হাজার মিসাইলের দাপটে, বহু বিল্ডিং, সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে।
  • ইরানের হাতে এমন কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র রয়েছে যার ভরসায় আমেরিকার সঙ্গে 'পাঙ্গা' নিচ্ছে ইরান।

গত ২৮ দিন ধরে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের উপর টানা হামলা চালাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই হামলায় হাজার হাজার মিসাইলের দাপটে, বহু বিল্ডিং, সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। তা সত্ত্বেও, ইরানের হাতে এমন কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র রয়েছে যার ভরসায় আমেরিকার সঙ্গে 'পাঙ্গা' নিচ্ছে ইরান।

এই অস্ত্রগুলো এতটাই শক্তিশালী যে সেগুলো সেরা মার্কিন ও ইজরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করছে। সস্তা ড্রোন থেকে শুরু করে হাইপারসনিক মিসাইল- ইরান শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে এগুলো ব্যবহার করছে। 

ফাতাহ হাইপারসনিক মিসাইল

ইরানের ফাতাহ-১ এবং ফাতাহ-২ মিসাইলগুলো বিশ্বের দ্রুততম মিসাইলের মধ্যে অন্যতম। এগুলো ঘণ্টায় ১৮,৫২২ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে যেতে পারে। আবার সাধারণ মিসাইলগুলো সরলরেখায় চললেও, ফাতাহ মিসাইলগুলো মাঝপথে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই কারণে প্যাট্রিয়ট বা আয়রন ডোমের মতো ইজরায়েলি ও আমেরিকান ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এগুলোকে ঠেকানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। 

এই মিসাইলগুলো ইরান ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখছে। ফলে এগুলি ধ্বংস করাও সহজ নয়। এই মিসাইলগুলো শত্রুপক্ষের রাডারকেও ফাঁকি দিতে পারে।

জুলফিকার ব্যালিস্টিক মিসাইল

জুলফিকার হল ইরানের হার্ড জ্বালানি চালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার মানে এটি লঞ্চ করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। পুরোনো তরল জ্বালানি চালিত মিসাইলগুলো প্রস্তুত করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত।

শাহেদ-১৩৬ অ্যাটাক ড্রোন

শাহেদ-১৩৬ হলো ইরানের সবচেয়ে সস্তা অথচ সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র। এই ছোট ড্রোনটি সস্তা ইঞ্জিন এবং সাধারণ যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি। প্রতিটি ড্রোনের দাম মাত্র কয়েক হাজার ডলার, অথচ এটিকে আটকাতে আমেরিকাকে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এই ড্রোনটি নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। ফলে রাডারে এটি সহজেই অদৃশ্য থাকে। ইরান এমন হাজার হাজার ড্রোন তৈরি করেছে এবং যুদ্ধের সময় ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যবহার করছে।

একযোগে কয়েকশো ড্রোনের আগমন শত্রুপক্ষের ডিফেন্স সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করে দেয়। এমনকি ২৮ দিন পরেও শাহেদ ড্রোনগুলো মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজরায়েলি শহরগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে ইজরায়েল ও আমেরিকার দামি ডিফেন্স মিসাইলের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। ইরান সহজেই কারখানায় এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তৈরি করে, তাই হামলা সত্ত্বেও এর সরবরাহ অব্যাহত থাকে।

Advertisement

খোররামশহর-৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল

খোররামশাহর-৪ হলো ইরানের একটি শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এটি একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং এটি প্রায় হাইপারসনিক গতিতে টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরান বিশেষভাবে এটিকে মার্কিন নৌ ও ইজরায়েলি বিমান ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করার জন্য তৈরি করেছে। 
 

 

POST A COMMENT
Advertisement