আলিরেজা তাংসিরিসংঘর্ষে নিহত ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি। ইজরায়েলের এক কর্মকর্তা এই খবর সামনে এনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনেইয়ের মৃত্যুর পর আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুই সব থেকে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, ইরানের হয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার তিনিই ছিলেন প্রধান কারিগর। তাঁর নেতৃত্বেই হরমুজকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছিল ইরানীয় সেনা।
তবে ইজরায়েল এই দাবি করলেও ইরান এখনও এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। সরকারিভাবে তাদের তরফে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানোও হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আলিরেজা তাংসিরি সত্যিই মারা যান তাহলে তা ইরানের জন্য বিরাট ক্ষতি। কারণ, তাঁর হাতেই ছিল নৌসেনার ভার। ইজরায়েল ও আমেরিকার আক্রমণের পর কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালীকে বন্ধ করে ওই দুই দেশকে বিপদে ফেলে ইরান। আর এই হরমুজ প্রণালীকে বন্ধ করার নেপথ্যে ছিলেন আলিরেজা।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের দাবি, ইরানের নৌসেনা প্রধানকে মারার জন্য অনেকদিন ধরেই ছক কষেছিল ইজরায়েল ও আমেরিকা। ইজরায়েলের খবর সত্যি হলে তা ইরানের জন্য বড় আঘাত। সেক্ষেত্রে হরমুজকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে ইরানকে।
আলিরেজা কে ছিলেন?
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশে জন্ম গ্রহণ করেন। আলিরেজা ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এবং ১৯৮০-র দশকে আমেরিকার সঙ্গে সংঘটিত তথাকথিত ‘ট্যাঙ্কার যুদ্ধ’-এ অংশগ্রহণ করেন। সেই থেকে তাঁর উত্থান।
পরবর্তীতে তিনি বান্দার আব্বাসে আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রথম নৌ জেলায় কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করার পর বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নেন।
তার কথিত মৃত্যু ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যার ক্রমবর্ধমান তালিকায় নতুন সংযোজন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন আমেরিকা ও ইজরায়েল সমন্বিত সামরিক হামলা চালায়, তখন থেকেই এই পরিস্থিতির সূচনা।