পাকিস্তানের মুখ পুড়লআমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা চলছিল। আশা ছিল, সংঘর্ষ বন্ধ হবে। তবে আপাতত সেই দিকে এগচ্ছে না পরিস্থিতি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তরফে খবর, ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানে কথা বলতে চাইছে না।
এই সংবাদপত্রের একটি রিপোর্টে জানান হয়েছে, 'পাকিস্তান এবং ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যেই মধ্যস্ততার চেষ্টা করছিল, সেটা প্রায় ভেস্তে গিয়েছে।'
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান চাইছে না পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে। তারা জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যেই ধরনের শর্ত রাখা হয়েছে, সেটা মানা সম্ভব নয়। সংবাদপত্রটি লিখেছে, 'ইরান সরকারিভাবে মধ্যস্ততাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আমেরিকার সঙ্গে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ, আমেরিকার চাহিদা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।'
মাথায় রাখতে হবে, এই যুদ্ধের জন্য সারা পৃথিবীতেই ত্রাহি ত্রাহি রব। তাই অনেকেই এই যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে। যদিও এই সবের মাঝেই উড়ে এসে জুড়ে বসতে চেয়েছে পাকিস্তান। তারা চাইছে এই যুদ্ধ বন্ধ বড় ভূমিকা নিতে। যদিও সেখানেই বড় ধাক্কা খেল ইসলামাবাদ। তাদের দেশে গিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে দিল ইরান। আর তাতেই ইসলামাবাদেরও মুখ পুড়ল বিশ্বের কাছে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
আসলে ইসলামাবাদ এই মধ্যস্ততা করানোর জন্য প্রথম থেকেই আগ্রহী ছিল। সেই মতো পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশক দার বলেন, 'এই আলোনা অনুষ্ঠিত করতে পারলে খুশি হবে ইসলামাবাদ।' যদিও সেই আলোচনাই এখন বিশ বাঁও জলে।
এর আগে এই নিয়ে মুখ খুলেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে কথা চলছে। খুব ভাল দিকে এগচ্ছে সেই কথা। যদিও সেই আলোচনাই এখন 'ডেড এন্ডে' পৌঁছে গেল।
মাথায় রাখতে হবে, ইরান আগেই অস্বীকার করেছিল যে তারা পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় কোনও আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। দেশটি জানায়, এমন কোনও প্রচেষ্টায় তারা থাকবে না।
মুম্বইয়ে ইরানের কনসুলেট জেনারেলের তরফে এক্স-এ শেয়ার করা বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'US-এর সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা হয়নি এবং তেহরান কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি পেয়েছে।'
বাঘাই দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ইরান ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছে। তবে সেই শর্তকে তিনি অতিরিক্ত, অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে দাবি করেন।