হরমুজ খুলে দেবে বলছে ইরানদুই মাস ধরে চলছে আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ। কিন্তু হাজার চেষ্টার পরও দুই দেশ কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। এমনকী চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। যার ফলে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। যদিও এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ নিয়ে আমেরিকার সামনে নয়া প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এখন আর আলোচনা নয়। সেটা নিয়ে পরে কথা হোক, এমনটাই চাইছে ইরান।
যতদূর খবর, পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরান এই ডিল আমেরিকার সামনে রেখেছে। তেহরান চাইছে হরমুজ খুলে দিতে। পাশাপাশি তারা আশা করছে এর বদলে আমেরিকাও ইরানের বন্দরগুলির উপর থেকে অবরোধ তুলে নিক।
যদিও ইতিমধ্যেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে তখনই আলোচনা করা যাবে, যখন সমুদ্র নিয়ে সব সমস্যা মিটে যাবে। এরই পাশাপাশি ইরান যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানো বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিও চাইছে।
ইরানের নেতৃত্বের মধ্যেও ভিন্নমত রয়েছে
এই শর্ত এমন সময় সামনে এল, যখন ইরানের নেতৃত্বের মধ্যেও একাধিক বিষয়ে মতবিরোধের খবর সামনে আসছে। এমনকী পরমাণু অস্ত্র নিয়ে মতভেদ রয়েছে বলে খবর। এই বিষয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরগাছি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লিমিট নিয়েও নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমনকী কতটা ইউরেনিয়াম স্টক দিয়ে দেওয়া উচিত সেটা নিয়েও রয়েছে বিরোধ। তাই ইরান চাইছে পরমাণু নিয়ে পরে কথা হোক।
জটিলতা বাড়ছে
ইরানের এই প্রস্তাবের পরই ওয়াশিংটনের চিন্তা বাড়ছে। তারা মনে করছে, এখনই তেহরানের কথা শুনে অবরোধ তুলে নিলেই তাদের হাত থেকে ইরানকে নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা চলে যাবে। আমেরিকা চাইছে ইরান যাতে দীর্ঘসময় নিজেদের ইউরেনিয়াম সৃমদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখে।
মাথায় রাখতে হবে, ইরান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে কাজ করছে পাকিস্তান, মিশর এবং তুর্কি। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দুইবার আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু সমাধান সূত্র এখনও বেরয়নি। তাই নতুন একটা প্রস্তাব দিয়েছেন ইরান। এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে দাবি।
যদিও ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন যে হরমুজে অবরোধ চলবে। ইরানের বন্দর বন্ধ রাখা হবে। এখন দেখার তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন কি না।