ইরান ও আমেরিকার কথাআমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ নিয়ে সারা পৃথিবীর মাথা ব্যথার শেষ নেই। তবে এমন উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই সামনে এল ভাল খবর। জানা যাচ্ছে, এখনও আমেরিকার সঙ্গে পরোক্ষভাবে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
সোমবার এই বিষয়ে মন্তব্য করেছে তেহরান। তারা জানিয়েছে, টানা কয়েক সপ্তাহের সামরিক সংঘাতের পরও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আর এটাই আপাতত আশার খবর।
ওদিকে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপরও এয়ার অ্যাটাক স্থগিত রেখেছেন। যার ফলে টানা তৃতীয় দিন নতুন করে কোনও হামলা চালায়নি দুই দেশ। ফলে যুদ্ধ থামতে পারে বলে আশা করছেন অনেকেই।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা চলছে। কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। তবে এই কথার পাশাপাশি তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের এখনও সংশয় রয়েছে।
অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই অভিযোগ করেন, ইরান কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। তবে আমেরিকাই সেই প্রক্রিয়াকে বারবার ব্যাহত করেছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য একটি মৌ হয়। সেই মৌ অনুযায়ী, ৩০ দিনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছিল তেহরান। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালায়। তারা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে।
তাঁর অভিযোগ, গত এক বছরে এমন ঘটনা তৃতীয়বার ঘটেছে, যখন আলোচনার মাঝেই ইরান ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ শিকার হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রয়াস চলছে
প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। তবে এই তীব্র সংঘাতের আবহেও ফের পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আর ইরানের মন্তব্যে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
আলোচনার জন্যই হামলা স্থগিত ট্রাম্পের
গত শুক্রবার আচমকাই ইরানে বোম্বিং স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। থেমে যায় দু'সপ্তাহের ক্রমাগত আক্রমণ। এরপর সপ্তাহান্তে আর কোনও নতুন মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এরপর রাষ্ট্রসঙ্ঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আরও একবার আলোচনার সুযোগ দিতে চান ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, 'তিনি (ট্রাম্প) আলোচনাকে কিছুটা সময় ও সুযোগ দিতে চাইছেন।'
ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিকও জানান, প্রেসিডেন্ট এখনও কূটনৈতিক সমাধান চান। সেটাই তাঁর অগ্রাধিকার। তবে তিনি একইসঙ্গে সামরিক চাপও বজায় রাখতে চাইছেন।
যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি সামান্য আলাদা। তাদের মতে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে দীর্ঘ যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।