Strait Of Hormuz Tension At Hormuz: ভারতগামী জাহাজ সিজ করল মুখোশধারী ইরানি 'মশা বাহিনী', উদ্বেগে দিল্লি

Strait Of Hormuz Tension At Hormuz: মুখ ঢাকা সশস্ত্র কমান্ডোরা দড়ি বেয়ে তরতরিয়ে উঠে পড়ছেন বিশালাকায় জাহাজে। বুধবার ঠিক এভাবেই হরমুজ প্রণালী থেকে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাই করল ইরান। যার মধ্যে একটি আসছিল ভারতের গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে। আর এই গোটা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ভিডিও খোদ তেহরানই প্রকাশ করেছে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে।

Advertisement
ভারতগামী জাহাজ সিজ করল মুখোশধারী ইরানি 'মশা বাহিনী', উদ্বেগে দিল্লিভারতগামী জাহাজ ছিনতাই করল ইরানি কমান্ডোরা

Strait Of Hormuz Tension At Hormuz: এ যেন হুবহু হলিউডি থ্রিলার! মাঝসমুদ্রে সাঁ সাঁ করে ছুটছে ইরানি নৌসেনার স্পিডবোট। মুখ ঢাকা সশস্ত্র কমান্ডোরা দড়ি বেয়ে তরতরিয়ে উঠে পড়ছেন বিশালাকায় জাহাজে। বুধবার ঠিক এভাবেই হরমুজ প্রণালী থেকে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ছিনতাই করল ইরান। যার মধ্যে একটি আসছিল ভারতের গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে। আর এই গোটা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ভিডিও খোদ তেহরানই প্রকাশ করেছে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে। যা দেখে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা চাল দেয় ইরান। পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনন্ডাস’ জাহাজ দুটিকে আটক করে ইরানি নৌসেনা। এদের মধ্যে ‘এপামিনন্ডাস’ জাহাজটি দুবাই থেকে ভারতের মুন্দ্রা বন্দরের দিকে আসছিল। যুদ্ধের আবহে এই প্রথম সরাসরি বিদেশি জাহাজ নিজেদের উপকূলে টেনে নিয়ে গেল তেহরান।

কীভাবে চলল অপারেশন?
ইরানের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ছোট ও অতি দ্রুতগামী স্পিডবোট নিয়ে জাহাজ দুটির পিছু নিয়েছে ইরানি বাহিনী। মার্কিন সেনার দাবি, এগুলি ইরানের কুখ্যাত ‘মস্কুইটো ফ্লিট’ বা মশা বাহিনী, যারা অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও রাডারের নজর এড়িয়ে চলতে সক্ষম। ভিডিওর এক দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, মুখোশধারী কমান্ডোরা মই বেয়ে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজে উঠছে। অন্যটিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের দিকে আসা ‘এপামিনন্ডাস’ জাহাজের ইঞ্জিন রুমে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে বন্দুকধারী জওয়ানরা। ইরানি বাহিনী গ্রেনেড ও গুলি চালানোয় ভারতগামী জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ক্ষতি হয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে কোনও নাবিক আহত হননি।

কেন এই সংঘাত?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি আসলে আমেরিকার ইঁট মারলে পাটকেল খাওয়ার জবাব। কদিন আগেই মার্কিন নৌসেনা ব্লকড ভেঙে পালানোর অভিযোগে ইরানের দুটি জাহাজ আটক করেছিল। তারই বদলা নিতে এবার আসরে নামল আইআরজিসি (IRGC)। তাদের দাবি, জাহাজগুলি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই যাতায়াত করছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপি করে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল।

Advertisement

উদ্বেগে দিল্লি
সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ। গত সপ্তাহেই ‘জগ অর্ণব’ এবং ‘সানমার হেরাল্ড’ নামে দুটি ভারতীয় জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান। অথচ তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভারতকে ‘বন্ধু দেশ’ হিসেবে আক্রমণ না করার আশ্বাস দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, ইরানে এখন নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? সরকারের নাকি আইআরজিসি-র? এই ঘটনায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ইরানি দূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। দিল্লির বন্ধুত্বের হাত যে এখন তেহরানের সামরিক আস্ফালনে বেশ চাপে, তা বলাই বাহুল্য।

 

POST A COMMENT
Advertisement