ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরানযুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তারই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে খসে যেতে চলেছে 'শান্তির মুখোশ'। ফের একবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা করল ইরান। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী মধ্যরাতে (ভারতীয় সময়)এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লেবাননে হিজবুল্লাহকে টার্গেট করে ইজরায়েলের ১০০টি এয়ার স্ট্রাইকের ঘটনায় ২৫০ জনেরও বেশি নিহত হওয়ার পর ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল 'পুরোপুরি' বন্ধ করে দেওয়া হল বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের এই সিদ্ধান্তের পরেই হোয়াইট হাউস দ্রুত এই প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে দু’টি জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে সিদ্ধান্ত বদল করে ইরান সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
কেন লেবাননে হামলা করা হল?
গতকাল থেকেই ইজরায়েল দাবি করে আসছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ছে না। কিন্তু এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। ইরানের মতে, যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টেই কার্যকর হওয়া উচিত। যার মধ্যে হিজবুল্লাহ ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিও রয়েছে। এদের উপরও হামলা বন্ধ করা উচিত বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরানের এক নেতা ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, “লেবাননের উপর বর্বর জায়নিস্ট আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। যুদ্ধবিরতি যদি হয়, তা সব ক্ষেত্রেই হতে হবে।”
সূত্রের খবর, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যে ইরান আংশিকভাবে এই ফের একবার হরমুজে অবরোধ শিথিল করতে পারে। তবে তখনও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
'যুদ্ধবিরতি'র মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় হামলা
লেবাননে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। রাজধানী বেইরুটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা শহর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইজরায়েলি সেনা সূত্রে দাবি, বেইরুট, বেকা ভ্যালি ও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০-র বেশি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।