ইরানের প্রত্যাঘাতে নিহত শতাধিক মার্কিন সেনা?শনিবার সরাসরি ইরানের উপর হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বাহিনী। সেই এয়ার স্ট্রাইকে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। তবে ইট খেয়ে পাটকেল ছোড়ার রাস্তাতেই হেঁটেছে তেহরান। হামলার পরেই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছিল ইরান। কার্যক্ষেত্রেও দেখা গেল তাই।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) -এর তরফে দাবি করা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার পর বেশ কয়েকটি দেশে থাকা মোট ১৪টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় কয়েকশো মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে।
প্রত্যাঘাতের শুরুতে ইরানের মিসাইল সর্বাগ্রে টার্গেট করেছিল বাহারিনে। এই দেশের জুফেয়ার এলাকায় মার্কিন ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে ইরানি মিসাইল। এই এলাকাতেই রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি। বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়ার স্তর ও বিস্ফোরণের শব্দও শুনেছেন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের হামলায় কোনও মার্কিন সেনা কর্মীর মৃত্যু হয়নি। কারণ, ইরানের হামলার আগেই ওই ঘাঁটি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কুয়েত, কাতার, জর্ডনেও হামলা ইরানের
শুধুমাত্র বাহারিন নয় কুয়েত, কাতার, জর্ডনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও পরপর আঘাত হানে ইরান। কাতারে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে ইরানের মিসাইল, কুয়েতে আল সালীম মিলিটারি বেসে আঘাত হানা হয় এবং জর্ডনে মুওয়াফ্ফাক সালটি বিমান ঘাঁটিকে নিশানা করে ইরানের মিসাইল। এই তিনটি সামরিক বেস থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বহু দূর এলাকা থেকেও।
অন্যদিকে, বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে দুবাই ও দোহা থেকেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুবাই এবং দোহার আকাশে প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।