হরমুজ প্রণালী ইরানIran America War: বিশ্ব রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে ফের বাজতে শুরু করেছে যুদ্ধের দামামা। একদিকে আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, আর অন্যদিকে ইরানের সরাসরি পালটা চ্যালেঞ্জ। দুইয়ে মিলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নগর্ভ।
সোমবার তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি আমেরিকা বা ইজরায়েল তাদের ওপর কোনওরকম সামরিক হামলা চালায় বা তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে আঘাত হানে, তবে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। ইরানের এই হুমকি স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সংঘাতের সূত্রপাত ট্রাম্পের একটি কড়া আলটিমেটামকে কেন্দ্র করে। হোয়াইট হাউসের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে চরম মূল্য চোকাতে হবে তেহরানকে। এমনকি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একযোগে ইরানের শক্তি কেন্দ্রগুলিতে হামলার পরিকল্পনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। এর পালটা দিতেই ইরান এখন ‘তেল-অস্ত্র’ ব্যবহারের পথে হাঁটছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই পথটি রুদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে তেলের দামে আগুন লাগা এবং একাধিক দেশের অর্থনীতি এক ধাক্কায় ধসে পড়া।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। একদিকে আমেরিকা চাইছে ইরানকে কোণঠাসা করে ইজরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অন্যদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মরিয়া। এই দড়ি টানাটানির জেরে ভারত-সহ এশিয়ার দেশগুলির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে। চৈত্র মাসের এই গরমের মাঝে বিশ্ব রাজনীতির এই তপ্ত মেজাজ শেষ পর্যন্ত কোন ধ্বংসলীলার ইঙ্গিত দিচ্ছে, এখন সেটাই দেখার।