
ইভাঙ্কা ট্রাম্পমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা IRGC-এর সঙ্গে যুক্ত এক জঙ্গি বহুদিন ধরেই ট্রাম্প পরিবারকে টার্গেট করেছিল। সেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর উঠে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মহম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল সাদি
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মহম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল সাদি। সে ইরাকের নাগরিক এবং ইরানের প্রভাবশালী সামরিক সংগঠন IRGC-এর হয়ে কাজ করত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আল-সাদি শুধু ট্রাম্প পরিবারকে ঘৃণা করত না, বরং তাদের উপর হামলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনাও করছিল। বিশেষ করে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ছিল তার প্রধান টার্গেট।

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানির মৃত্যু। ২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন সোলেইমানি। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ইরান সেই সময় থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

সোলেমানিকে নিজের ‘গুরু’ বলে মনে করত
তদন্তকারীদের দাবি, আল সাদি সোলেমানিকে নিজের ‘গুরু’ বলে মনে করত। তাই তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই ট্রাম্প পরিবারকে আঘাত করার ছক কষেছিল সে। তদন্তে জানা গিয়েছে, আল সাদি দীর্ঘদিন ধরে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়ির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী তার কাছ থেকে ইভাঙ্কার বিলাসবহুল বাড়ির বিস্তারিত নকশাও উদ্ধার করেছে।

ট্রাম্প পরিবারের পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়ার প্ল্যান
ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের প্রাক্তন উপ-সামরিক অ্যাটাশে অ্যান্টিফাধ কানবার এই ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, সোলেমানির মৃত্যুর পর আল-সাদি প্রকাশ্যেই বলত, 'ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যা করতেই হবে।' শুধু তাই নয়, ট্রাম্প পরিবারের পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়ার কথাও নাকি বলেছিল সে। ঘটনাটি সামনে আসার পর মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অত্যন্ত সতর্ক হয়ে উঠেছে। কারণ, এই ঘটনা শুধু কোনও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ভয়ঙ্কর দিক তুলে ধরছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ষড়যন্ত্র সফল হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারত। বর্তমানে গোটা বিষয়টি নিয়ে জোর তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তের সঙ্গে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মার্কিন গোয়েন্দারা।