জঙ্গির দাবি, সেনাপ্রধান যুদ্ধের ঘোষণা করতে গিয়ে একে 'গজওয়া-এ-হিন্দ' বলে উল্লেখ করেছিলেন।খোদ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসীম মুনিরই 'গজওয়া-এ-হিন্দ'-এর ডাক দিয়েছিলেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করল জইশ-ই-মহম্মদের এক জঙ্গি। এই স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে ৫ ফেব্রুয়ারি জইশ-ই-মহম্মদের একটি সমাবেশ হয়। সেখানে সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরি এই মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই নাকি তিনি উপস্থিত জঙ্গিদের উদ্দেশে দাবি করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান যুদ্ধের ঘোষণা করতে গিয়ে একে 'গজওয়া-এ-হিন্দ' বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ইলিয়াস কাশ্মীরির বক্তব্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সকলকে অস্ত্র নিয়ে রেডি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছিল। সেই ঘোষণার সময়ই পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্ব এই সংঘাতকে 'গজওয়াত-উল-হিন্দ' বলে ঘোষণা করে। পাশাপাশি 'বুনিয়ান আল মারসুস'-এর কথাও উল্লেখ করা হয় বলে দাবি জঙ্গির।
আলোচ্য সমাবেশে মূলত জইশ-ই-মহম্মদে নতুন যোগ দেওয়া জঙ্গিরাই যোগ দিয়েছিল। সেখানে সন্ত্রাসবাদী মতাদর্শ প্রচারের জন্যই সেখানে এহেন বক্তব্য রাখা হয় বলে জানা গিয়েছে। ইলিয়াস কাশ্মীরি জঙ্গিদের উদ্দেশে বলেন, তাদের পরিচয় ও লক্ষ্য 'জিহাদ'। সরকার পাশে থাকুক বা না থাকুক, জিহাদ চালিয়ে যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য; এমন মন্তব্যও করেন তিনি। একই সঙ্গে কাশ্মীরকে 'মুক্ত' করার কথাও বলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, এই ইলিয়াস কাশ্মীরিই এর আগে দাবি করেছিলেন যে ৭ মে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুরে জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। সেই ঘটনার পর থেকেই 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে পাকিস্তান ও জঙ্গি সংগঠনগুলির বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বারবার নজর কেড়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রত্যাঘাত সামলাতে পাকিস্তানও পাল্টা 'মিশন' সেট করে। নাম দেয় 'বুনিয়ান আল মারসুস'। আরবি এই শব্দবন্ধের অর্থ, কাচের মতো শক্ত প্রাচীর। অর্থাৎ এমন এক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা অত্যন্ত দৃঢ়। এই নামের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রত্যাঘাতের সামনে তা কাচের মতোই গুঁড়িয়ে যায়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে যে জঙ্গি সংগঠনগুলির সম্পর্ক বেশ ভাল।
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমনিতেই সংবেদনশীল। তার মধ্যে 'গজওয়া-এ-হিন্দ'-এর মতো ধর্মীয় যুদ্ধের ডাক বেশ উদ্বেগজনক। এই ধরনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।