
হ্যারি বেলাফন্টেপ্রয়াত 'জামাইকান ফেয়ারওয়েল' (Jamaica Farewell) গানের স্রষ্টা হ্যারি বেলাফন্টে (Harry Belafonte)। বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানহাটনে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ক্যারিবিয়ান মিউজিকের একটি ঘরানা ক্যালিপসো মিউজিককে ৫০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করেছিলেন বেলাফন্টে। বেলাফন্টের গানে বারবার উঠে এসেছে প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারা শ্রেণির মনের কথা। বিশেষ করে মার্কিন সমাজে বর্ণবৈষম্য ভাঙতে গানকেই হাতিয়ার করেছেন বরাবর।
শুধু সঙ্গীতশিল্পীই ছিলেন না হ্যারি। ছিলেন সমাজকর্মীও। ১৯৫৬ সালে ক্যালিপসো বিশ্বের প্রথম ১০ লক্ষের বেশি বিক্রি হওয়া লং-প্লেয়িং রেকর্ড। ক্যারিবিয়ান লোকগীতিতে বিশ্বকে বুঁদ করে দেন বেলাফন্টে। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মার্টিন লুথার কিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। জর্জ বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির খোলাখুলি সমালোচনা করেছেন। গ্র্যামিতে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়া বেলাফন্টে ৫০-এর দশকে একেবারে অন্য ঘরানার মিউজিক নিয়ে আসেন।

বেলাফন্টে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক অধিকারের জন্য, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান, আফ্রিকায় বর্ণবাদ সহ ষাটের দশকে বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থ বিনিয়োগের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তিনি আজীবন বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক এবং ফিদেল কাস্ত্রো এবং উগো চাভেসের মতো চ্যাম্পিয়নদের সমর্থক ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চান। অভিনয়ে শিক্ষা নিতেও শুরু করেন। নিউ ইয়র্ক ক্লাবের লোকগীতি, পপ, জ্যাজ অনুষ্ঠান করে অভিনয়ের ক্লাসের জন্য টাকা জোগাড় করতেন।
‘দ্য বানানা বোট সং’, ‘জাম্প ইন দ্য লাইন’ থেকে ‘কারমেন জোন্স’, ‘আইল্যান্ড ইন দ্য সান’, ‘অডস এগেনস্ট টুমরো’-এর মতো গান পঞ্চাশের দশকজুড়ে ছেয়ে ছিল বিশ্বে। লোকগীতি ছাড়াও ব্লুজ়, গসপেল, শো টিউনস বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড-এর মতো জ়ঁরেও সমান সাচ্ছন্দ্য ছিলেন। জনপ্রিয় তো বটেই।
গায়ক হিসাবে সাফল্যের পর একের পর এক সিনেমার অফার আসতে শুরু করে বেলফন্টের কাছে। এক সময় হলিউডের প্রথম সারির অভিনেতার তালিকায় নামও চলে আসে বেলাফন্টের। তবে সিনেমা নিয়ে বেশিদূর এগোননি এই সুদর্শন শিল্পী। বরং মিউজিককেই আঁকড়ে ধরে রেখেছেন আজীবন।
বেলাফন্টের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন র্যাপার আইস কিউব। ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, 'সঙ্গীত শিল্পী, অভিনয় ও মানুষকে ছাপিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিত্ব।' অভিনেত্রী মিয়া ফ্যারো লিখেছেন, 'আমরা যদি সবাই হ্যারির মতো হতে পারতাম, পৃথিবীটা কত সুন্দর হত।' শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মার্টিন লুথার কিংয়ের কন্যা বারনিসও।