জেফ্রি এপস্টাইনএবার জেফ্রি এপস্টিনের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক কম টেস্টোস্টেরনের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। যৌন সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিতর্কিত ইমেলে ফাঁস হয়েছে সবটা।
আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কলঙ্কিত ঘটনাপ্রবাহ সামনে এসেছে। এবার নতুন করে শোরগোল ফেলে দিল সদ্য প্রকাশিত তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস-এর প্রকাশিক বিপুল নথির অংশ হিসেবে সামনে এসেছে নানা তথ্য। যা থেকে জানা গিয়েছে, বছরের পর বছর ঘরে এপস্টিনের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল অত্যন্ত কম। পাশাপাশি যৌন ইচ্ছা হ্রাসের অভিযোগ এবং লিঙ্গবর্ধক ওষুধ পর্যন্ত খেতে হয়েছিল তাঁকে। এমনও প্রকাশ্যে এসেছে বিতর্কিত ইমেল থেকে।
নথিতে থাকা ল্যাব রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের সঙ্গে ইমেল আদান-প্রদান অনুযায়ী, বহু বছর ধরেই এপস্টিনের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেক নীচে ছিল। ২০১৪ সালের একটি ইমেলে তাঁর চিকিৎসক স্পষ্ট ভাবে জানান, এপস্টিনের টেস্টোস্টেরন মাত্রা ছিল মাত্রা ১৪২। ৩ বছর পর একই চিকিৎসক আরও খারাপ খবর দেন। মাত্রা আরও নেমে দাঁড়ায় ১২৫-এ।
উল্লেখযোগ্য ভাবে আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ৩০০-র নীচে টেস্টোস্টেরন মাত্রাকে সাধারণত ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়।
এপস্টিন নিজেও তাঁর শআরীরিক অবস্থা নিয়ে বিরক্ত ছিলেন। হরমোন চিকিৎসা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল ভোর ৩টেয় চিকিৎসককে পাঠানো এক ইমেলে তিনি লেখেন, 'টাইমস্ট্যাম্প দেখলেই বোঝা যাবে আমার ঘুমের ধরণ ভাল নয়। আমি হরমোন থেরাপি শুরু করতে দ্বিধায় আছি। ১৫ বছর ধরে আমার টেস্টোস্টেরন কম। সময়ের প্রভাবই কি আমাকে ধরে ফেলেছে?'
যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ ও বিতর্কিত ইমেল
নথি অনুযায়ী, এপস্টিন একাধিকবার তার যৌন ইচ্ছা হ্রাস ও অন্যান্য যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ২০১২ সালে ড: ম্যাক্সম্যান নামে এক ব্যক্তির পাঠানো ইমেলে তাকে ‘ম্যাক্স পেনিস এনলার্জার পিলস’ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়। তবে এপস্টিন আদৌ এই পণ্য ব্যবহার করেছিলেন কি না, তার কোনও প্রমাণ নথিতে নেই।
চিকিৎসা সংক্রান্ত চিঠিপত্রে দীর্ঘদিনের সংক্রমণের ইতিহাসও উঠে এসেছে। এপস্টিন চিকিৎসকদের কাছে গনোরিয়ার উল্লেখ করেন এবং পরীক্ষার রিপোর্টে পরজীবী সংক্রমণ, প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি ও প্রস্রাবের প্রবাহ কমে যাওয়ার কথাও জানান।
২০১৬ সালে নিউ ইয়র্কের এক চিকিৎসককে পাঠানো ইমেলে তিনি নিজের অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। এপস্টিন লেখেন, 'প্রস্রাবের প্রবাহ কে গিয়েছে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা খুব কম (১২৫)। প্রায় দশ বছর ধরে একই রয়েছে। শার্লক? আমরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পার?'
একই নথিতে আরও জানা যায়, এপস্টিন নিজের শুক্রানু সংরক্ষণ (স্পার্ম ফ্রিজিং) নিয়েও তথ্য চেয়েছিলেন। যা তদন্তকারীরা বহু বছরের ব্যক্তিগত যোগাযোগ খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের অগাস্টে হেফাজতে এপস্টিনের মৃত্যু হয়। সরকারি ভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ককে দেহব্যবসার জন্য প্রলুব্ধ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।
এই নথি প্রকাশের পর সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়া চাইলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নিয।