Pakistan Fire: করাচি অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৭২, এক সপ্তাহ পরও বেরিয়ে আসছে পোড়া হাত-পা

পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক সপ্তাহ পার। তবে এখনও জারি আতঙ্ক। রবিবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২-এ।

Advertisement
করাচি অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৭২, এক সপ্তাহ পরও বেরিয়ে আসছে পোড়া হাত-পাপাকিস্তানে করাচির অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৭২।
হাইলাইটস
  • পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক সপ্তাহ পার।
  • রবিবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২-এ।
  • এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক সপ্তাহ পার। তবে এখনও জারি আতঙ্ক। রবিবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২-এ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ প্রায় শেষের পথে হলেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় এখনও মানবদেহের অংশ মিলছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ জানুয়ারি রাতে। করাচির সদর এলাকার গুল শপিং প্লাজার বেসমেন্টে প্রথম আগুন লাগে। সেই আগুন দ্রুত গোটা বহুতল বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। পাইকারি ও খুচরো বিক্রির এই বাজারে প্রায় ১,২০০টি দোকান ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর গোটা শপিং প্লাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৮,০০০ বর্গফুট এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এই বিপণি কমপ্লেক্স এখন সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

করাচি দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার জাভেদ নবি খোসো রবিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭২টি দেহ বা মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এক সপ্তাহ ধরে চলা উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই শেষ করা হবে। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজও চলছে।” তবে প্রশাসনের কাছে এখনও ১২ জন নিখোঁজের একটি তালিকা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ সার্জন ডা. সুম্মাইয়া সৈয়দ জানিয়েছেন, গত রবিবার থেকে মোট ৭২টি দেহ বা দেহাংশ তাঁর দফতরে এসেছে। তিনি বলেন, “দেহগুলির অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। অধিকাংশই সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দেহের অংশ আলাদা ব্যাগে করে আনা হয়েছে। ফলে পরিচয় শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।” এখনও পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ২২টি দেহের পরিচয় নিশ্চিত করা গিয়েছে বলেও জানান তিনি। বাকি দেহগুলির পরিচয় শনাক্ত করতে আরও সময় লাগবে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত অবস্থায় প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসার পর তাঁদের সকলকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। তবে উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে দেহাংশ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খোসোর দাবি, শনিবার রাতেও ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবদেহের অংশ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন ঠিক কীভাবে এবং কোথা থেকে ছড়িয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।  

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement