দম্পতিদের ৩ সন্তানে ছাড়পত্র দিল চিনবাড়ছে দেশে বয়স্কদের সংখ্যা, সেই সঙ্গে কমছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল চিনের কমিউনিস্ট সরকার। ফের একবার পরিবার পরিকল্পনার নিয়মে শিথিলতা আনল চিনা সরকার। সোমবারের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে, এখন থেকে চিনা দম্পতিরা তিন সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। এর আগে চিনে দম্পতিদের মাত্র দুটি সন্তানের জন্মের অনুমতি ছিল।
সম্প্রতি, চিনের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে যে চিনের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দ্রুত বুড়ো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের কথা ভেবেই চিনকে এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে।
চিনা গণমাধ্যমের মতে, নতুন নীতিটি ইতিমধ্যে চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, দম্পতিদের দুটি শিশুর নীতি এখন চিনে বাতিল করা হচ্ছে।
কেন চিনকে এই পদক্ষেপ নিতে হল?
আসলে, সম্প্রতি চিন তার জনসংখ্যার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এর দেখা গেছে গত দশকে বিশ্বের মধ্যে চিনে শিশুদের গড় জন্মহার সবচেয়ে কম ছিল। এর মূল কারণ হিসাবে দায়ি করা হয়েছে চীনের কঠোর সন্তান নীতিকে।
তথ্য অনুসারে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে চিনে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ। যেখানে ২০০০ এবং ২০১০-এর মধ্যে এই গতি ছিল ০.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত দুই দশকে চিনে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার গতি হ্রাস পেয়েছে।
কেবল এগুলিই নয়, তথ্য বলছে যে ২০২০ সালে চিনে মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল, ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৮ কোটির মতো। আর ১৯৬০- এর পরে, চিনে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যাও সর্বনিম্নে পৌঁছেছিল।
শিশু নীতি সম্পর্কে চীন সবসময়ই কঠোর
চিন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং এর পরেই রয়েছে ভারত। ১৯৭০-এর দশকে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান গতিতে রাশ টানতে চিনের কয়েকটি অঞ্চলে একটি শিশুর নীতি চালু করা হয়েছিল। সেই সম্পয় ওই অঞ্চলে দম্পতিরা কেবল একটি সন্তানের জন্ম দিতে পারতেন। পরে যখন এই নিয়মটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এর বিপরীত প্রভাব পড়ে। চিনে বাচ্চাদের জন্মের গতি কমতে শুরু করে।
দীর্ঘদিন পরে ২০০৯ সালে চিন এক সন্তান নীতির পরিবর্তন করে এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন দম্পতিকে দুটি সন্তানের জন্ম দেওয়ার স্বাধীনতা দেয়। কেবল দু'জন সন্তান সেই দম্পতিরাই করতে পেরেছিল যাঁরা তাঁদের পিতামাতার একমাত্র সন্তান। ২০১৪ সালের মধ্যে, এই নীতিটি পুরো চিন জুড়ে চালু হয়। এবার ২০২১ সালে চিন আবারও তার নীতি পরিবর্তন করল এবং প্রতি দম্পতিকে তিনটি সন্তানের জন্ম দেওয়ার অনুমতি দিল।