Mohamed Muizzu: পঁচিশে ভারতকে 'তোষামোদ', ছাব্বিশে পাকিস্তানের 'বন্ধু', মালদ্বীপের মুইজ্জুর মতলব কী? নিজের দেশেই নিন্দার মুখে

গত ১১ বছরে প্রথমবার পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন মালদ্বীপের কোনও প্রেসিডেন্ট। এমনিতেই মহম্মদ মুইজ্জুর ভারত বিরোধিতার অতীত রয়েছে। কিন্তু খোলাখুলি এই ভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে দোস্তি বাড়ানোয় মালদ্বীপের বিদেশনীতিতে বিতর্ক তৈরি করেছে।

Advertisement
পঁচিশে ভারতকে 'তোষামোদ', ছাব্বিশে পাকিস্তানের 'বন্ধু', মালদ্বীপের মুইজ্জুর মতলব কী?প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে মহম্মদ মুইজ্জু ও পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে মুইজ্জু
হাইলাইটস
  • মুইজ্জুর পাকিস্তান সফর ঘিরে মালদ্বীপে বিতর্ক
  • মালদ্বীপ সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন
  • আগামী নির্বাচনের জন্য ফের ভারত-বিরোধী হাওয়া তুলছেন মুইজ্জু

পাকিস্তানের ক্রমেই বন্ধুত্ব আরও বাড়াচ্ছে মালদ্বীপ। দেশটির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর ইসলামাবাদ সখ্য ভাল চোখে দেখছে না তাঁর দেশেরই একটি বড় অংশ। মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদ সহ বিরোধীরা স্পষ্ট বার্তা দিল, ইসলামাবাদের সঙ্গে দোস্তি বাড়ালে বড় আন্দোলন হবে। মালদ্বীপের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের যদি কোনও ক্ষতি হয় বা হুমকি অনুভব করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।

গত ১১ বছরে প্রথমবার পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন মালদ্বীপের কোনও প্রেসিডেন্ট। এমনিতেই মহম্মদ মুইজ্জুর ভারত বিরোধিতার অতীত রয়েছে। কিন্তু খোলাখুলি এই ভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে দোস্তি বাড়ানোয় মালদ্বীপের বিদেশনীতিতে বিতর্ক তৈরি করেছে। সে দেশের বিরোধীদের বক্তব্য, ভারত বিরোধী মিথ্যে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মুইজ্জু। এখন দিল্লির সঙ্গে মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের দৃঢ় সম্পর্ক টিকে থাকাই ঝুঁকির মুখে।

পাকিস্তান সফরে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু- পিটিআই
পাকিস্তান সফরে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু- পিটিআই

মুইজ্জুর পাকিস্তান সফর ঘিরে মালদ্বীপে বিতর্ক

নাশিদ তো একেবারে খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যথাযথ বিবেচনা না করেই পাকিস্তান সফর করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে মালদ্বীপকে জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর আদ্দু সিটিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে নাশিদ বলেন, 'ছোট দেশগুলির ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মালদ্বীপের মতো দেশের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতির ঝুঁকি যথেষ্ট বেশি। পাকিস্তান সফরের মাধ্যমে মুইজ্জু ফের মালদ্বীপকে ভারত-পাকিস্তান বিরোধের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে নয়াদিল্লি মনে করলে তার পরিণতি মালদ্বীপকে ভোগ করতে হতে পারে। ভারত যদি মনে করে পাকিস্তানের সঙ্গে মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক তাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ, তা হলে দ্বীপরাষ্ট্রটির উপর তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।'

মালদ্বীপ সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন

মলদ্বীপের সংবাদমাধ্যম সান অনলাইন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাশিদ মনে করেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ছোট দেশগুলিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হয়। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মালদ্বীপের বিদেশনীতি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

Advertisement

২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন - পিটিআই
২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন - পিটিআই

আগামী নির্বাচনের জন্য ফের ভারত-বিরোধী হাওয়া তুলছেন মুইজ্জু

২০২৮ সালে মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। মুইজ্জুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নাশিদ। নাশিদ সহ বিরোধীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যই ২০২৩ সালের মতো ফের ভারত-বিরোধী প্রচার শুরু করার তোড়জোড় করছেন মুইজ্জু। তারই নির্যাস, পাকিস্তানের সঙ্গে দোস্তি।

মালে ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্প্রতি ২০টির বেশি MoU হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে। তিনদিন মুইজ্জু পাকিস্তান সফর করেন। শেহবাজ শরিফ থেকে আসিম মুনির, পাকিস্তান সরকার ও সেনার শীর্ষদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। কিন্তু মুইজ্জুর হঠাত্‍ করে ইসলামাবাদের সঙ্গে সখ্য বাড়ানো মুইজ্জুর অতীতের ভারত বিরোধিতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। সামনেই যেহেতু নির্বাচন, তাই এখন থেকেই ভারত বিরোধী হাওয়া গরম করছেন মুইজ্জু।  

২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন - পিটিআই
২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন - পিটিআই

২০২৩ সালে ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগানকে সামনে রেখে পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসকে (PNC) ক্ষমতায় এনেছিলেন মালদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, মালদ্বীপে মোতায়েন ভারতীয় সেনাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়া। সেই দাবি মেনে ২০২৪ সালের মে মাসে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহৃত ভারতীয় বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সেনাকর্মীদের পরিবর্তে অসামরিক প্রযুক্তিবিদদের নিয়োগ করা হয়।

এরপর অবশ্য নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ নেন মুইজ্জু। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মালদ্বীপ সফরও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সেই প্রচেষ্টার অন্যতম পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু এবার ফের মুইজ্জুর বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মলদ্বীপের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী আবদুল্লা শাহিদ। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (MDP) নেতৃত্ব পাওয়ার দৌড়ে থাকা শাহিদের অভিযোগ, মুইজ্জু ফের ভারত-বিরোধী অবস্থানের দিকে এগোচ্ছেন।

POST A COMMENT
Advertisement