ভারত আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি কতদূর? আমেরিকার স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন। এবার তিনি মুম্বই এবং গুজরাতের জামনগরে যাবেন। যতদূর খবর, এই সফরে তিনি ভারতের সঙ্গে জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো, কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করার টার্গেট নিয়েই আসছেন। যদিও এখনও বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এমনকী রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার আপত্তি বর্তমান। তবে এরই মধ্যে ট্রেড ডিল হতে পারে বলে একটা আশা তৈরি হচ্ছে।
আসলে মার্কিন বিদেশ দফতর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ভারত সফরের আগে রুবিও উজবেকিস্তানের সমরকন্দে যাবেন। সেখানে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের সঙ্গে সি৫+১ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর তিনি ভারতে আসবেন।
অবশ্য চলতি বছরের মে মাসেই ভারতে এসেছিলেন রুবিও। নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আয়োজনে কোয়াডের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন তিনি।
এই সফরে কাদের সঙ্গে দেখা করবেন? কী নিয়ে আলোচনা?
ভারত সফরে রুবিও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার কথাও রয়েছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে তিনি ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বিদেশ দফতর।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন জয়শঙ্কর?
এখনও ভারত-আমেরিকা ট্রেড ডিল হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্য আশার কথা শুনিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। যদিও আমেরিকার পরিবর্তিত বাণিজ্য নীতির কারণে বিভিন্ন দেশকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে ব্লুমবার্গ নিউজের এডিটর-ইন-চিফ জন মিকলথওয়েটের সঙ্গে কথা বলার সময় জয়শঙ্কর বলেন, 'আমার মনে হচ্ছে, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।'
জয়শঙ্করের মতে, আমেরিকা নিজেদের দেশের শিল্পকে নতুন করে শক্তিশালী করতে চাইছে। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলি কী শর্তে আমেরিকার বাজারে ব্যবসা করতে পারবে, তা নিয়েও নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছে ওয়াশিংটন।
আর জয়শঙ্করের কথা থেকেই পরিষ্কার, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ। তবে এখনও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, এর আগে মে মাসে চার দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কো রুবিও। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে।
২৪ মে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে রুবিও আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি করা সম্ভব হবে। তাঁর বক্তব্য ছিল, আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে এবং দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক একটি চুক্তি করতে চায় আমেরিকা।
অন্যদিকে জয়শঙ্কর দ্রুত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তি এখনও হয়ে ওঠেনি।
বাণিজ্য চুক্তিই এখন বড় পরীক্ষা
মে মাসে আশার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে আমেরিকা শুল্কনীতি পরিবর্তন করেছে। এছাড়া বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যেই কারণে বাণিজ্য আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
৫ অক্টোবর ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, আলোচনা কার্যত একটি জায়গায় এসে আটকে রয়েছে। দুই পক্ষের কাছ থেকেই আরও ছাড় আদায় করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
আমেরিকা চায়, ভারতের বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়ুক। অন্যদিকে ভারত এমন শর্তে চুক্তি করতে চাইছে, যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলি সুরক্ষিত থাকে। এরই মাঝে আগামী সপ্তাহে মার্কো রুবিওর ভারত সফর আসছেন। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।