ফিলিপিন্সে আগুনমঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে পড়ে ফিলিপিন্সের বনগাঁওয়ের ছোট্ট দ্বীপ বারাঙ্গে লামিয়া। আগুনের ভয়াবহতায় দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপের প্রায় সব ঘরবাড়ি জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। যতদূর খবর, প্রায় ১০০০ ঘরকে গিলেছে আগুনের গ্রাস। ৫০০০-এর বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র বাতাস থাকার কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে সুবিধা হয়।
কীভাবে লাগল আগুন?
সংবাদ সংস্থা পিএনএ-এর মতে, এই দ্বীপে সমুদ্রে পিলারের উপর তৈরি বাড়িতে প্রথমে আগুন লাগে আগুন। এই ধরনের বাড়িগুলি সাধারণ কাঠ, বাঁশ এবং নারকেল গাছের সাহায্য বানান হয়। আর এই বাড়িগুলি একে অপরের খুব কাছাকাছি তৈরি হয়। যার ফলে একটি ঘর থেকে অন্য ঘরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে আগুন। এছাড়া তীব্র বাতাসের কারণে আগুন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। বেড়ে যায় তীব্রতা। যার ফলে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যায় ঘরগুলি।
ক্ষতির পরিমাণ...
ছবি এবং ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে
এই অগ্নিকাণ্ডের ছবি এবং ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সব ভিডিও এবং ছবি দেখলে শিউরে উঠতে হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে দাউ দাউ করে আগুনে পুড়ছে একাধিক বাড়ি। কালো ধোঁয়াতে ঢেকে গিয়েছে চারিদিক।
কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল আগুন?
এরও কারণ জানান হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তাদের বক্তব্য হল, এই সব দ্বীপে সমুদ্রের উপর পিলার তৈরি করে ঘর তৈরি করা হয়। যার ফলে আগুন লাগলে সেখানে দমকলের পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়।
এছাড়া এই সব ঘরগুলি তৈরি হয় কাঠ দিয়ে। এগুলির ভিতরে থাকে নানা ধরনের দাহ্য পদার্থ। সেই সঙ্গে ঘরগুলি একে অপরের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে। তাই দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে আগুন।
কেন আগুন লেগেছে?
এই বিষয়টা এখনও ঘোষণা করেনি মায়ানমার সরকার। তবে তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট বা গ্যাস লিকের জন্য ঘটে থাকতে পারে এই অগ্নিকাণ্ড।
বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে সরকার। গৃহহীন মানুষদের জল, খাবার ও জামাকাপড় দিয়ে করা হচ্ছে সাহায্য। পাশাপাশি তাদের অন্যত্র বসবাসা করার জায়গাও দেওয়া হচ্ছে।