আছড়ে পড়ল একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় মিসাইল ও ড্রোন।দেশজুড়ে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি তুঙ্গে। ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ইরানের একাধিক অঞ্চল এবং ভারতের সহায়তায় তৈরি ‘চাবাহার’ (Chabahar) বন্দরে আছড়ে পড়ল একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় মিসাইল ও ড্রোন। কোনও দেশই এখনও পর্যন্ত এই রহস্যময়-চোরাগোপ্তা হামলার দায় স্বীকার করেনি। সম্প্রতি আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দিয়েছে। তারপরও তেহরানকে কারা নিশানা করল? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলকে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বুশেহর, সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশ, আহওয়াজ এবং চাবাহার শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকার ‘সেন্ট্রাল কম্যান্ড’ (CENTCOM) এই হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানায়নি।
রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: পাল্টা হানায় কাঁপল কাতার-কুয়েত
তেহরানের সন্দেহ, এই হামলার পিছনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলির হাত রয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতেই বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত এবং কাতারের মার্কিন সেনাঘাঁটি ও জ্বালানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। মধ্যরাতেই এই চার দেশে যুদ্ধকালীন সাইরেন বাজতে শুরু করে। সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নেয় যে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-র রাষ্ট্রপ্রধান শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তড়িঘড়ি কুয়েত সফরে যান। জিপিএ (GPA) দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।
ইজরায়েলের ‘নীল-সাদা’ হামলার হুঁশিয়ারি!
গত জুনের পর থেকে ইজরায়েল ইরানের ওপর সরাসরি কোনও হামলা চালায়নি। তেল আভিভ সাধারণত এই ধরনের হামলার দায় দ্রুত স্বীকার করে নেয়। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণকৌশল’ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
এর পরেই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ এক সামরিক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ইরানকে তৃতীয়বার ধ্বংস করার হুমকি দেন। বলেন, 'ইজরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে। প্রয়োজনে আকাশপথের দখল নিতে এবং সমস্ত হুমকি নির্মূল করতে ইরানের ওপর ‘ব্লু-হোয়াইট’ (ইজরায়েলের জাতীয় পতাকার রঙ) হামলা চালাতে আমরা প্রস্তুত। যদি আমাদের ফিরতে হয়, তবে এবার আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফিরব।'
নেপথ্যে কি হরমুজ প্রণালীর কর বিতর্ক?
আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মতে, এই রহস্যময় হামলার নেপথ্যে ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)-র নিয়ন্ত্রণ বিতর্ক থাকতে পারে। আমেরিকা ও আরব দেশগুলির দাবি, এই আন্তর্জাতিক জলপথ সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখতে হবে। অন্যদিকে, খামেনেই-এর মৃত্যুর পর ইরান এই প্রণালীর ওপর নিজেদের একচেটিয়া অধিকার দাবি করেছে। সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা কর আদায়ের চেষ্টা করছে। এই অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতই যে মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এই রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তারই প্রমাণ।