
ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে একটি বড়সড় হামলা চালানো হয়েছে। সে দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ ভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, এই স্ট্রাইকের জেরে কোনও তেজস্ক্রিয় পাদর্থ বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ পরমাণু বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই।
বিস্ফোরণের পর নিকটবর্তী বাসিন্দারা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। ইরান সরকার এই হামলাকে ইরানের উপর সামরিক চাপ প্রয়োগের জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের একটি দীর্ঘদিনের কৌশলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও এই পরমাণু কেন্দ্রে বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে। এতে সম্পত্তির ক্ষতি হলেও কোনও ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি বলে সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানের রামসার শহরের একটি আবাসনে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় এক দম্পতি ও তাদের সন্তান নিহত হয়েছেন বলে খবর। রামসার প্রদেশের গভর্নর মেহদি ইউনেসি রোস্তামি এই হামলার তীব্র নিন্দা করে একে মানবতাবিরোধী আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের হিংসা ইরানকে দুর্বল করবে না বরং দেশের ঐক্য ও সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।'
এই পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ইদের শুভেচ্ছা জানান এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রে হামলার নিন্দা করে সতর্ক করেন। জানান, এই ধরনের আক্রমণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। মোদী সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের গুরুত্বও উল্লেখ করেন এবং শিপিং লেন নিরাপদ রাখার উপর জোর দেন। পাশাপাশি, ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন, যা ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।