ইরান আমেরিকার যুদ্ধমধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ৩৩ দিনে পড়ল। আর এখনও পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার নাম নেই। বরং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানকে বড় হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। আর চুপ করে বসে নেই তেহরানও। তাদের পক্ষ থেকেও পাল্টা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আর দুই তরফের এহেন বাকযুদ্ধ নিয়েই এখন ত্রাহি ত্রাহি রব গোটা পৃথিবীতে।
যদিও এরই মধ্যে একটা ভাল খবর সামনে আসছে। এক্সিওসের পক্ষ থেকে খবর, ওই অঞ্চলের মধ্যস্থতাকারীরা আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। তাঁরা অন্তত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি চাইছেন। আর এই দাবি করার সময় অ্যাক্সিওস আমেরিকান, ইজরায়েলি এবং রিজিওনাল সোর্সের কথা উল্লেখ করেছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কী আলোচনা?
অ্যাক্সিওসের প্রতিনিধি বারাক রাভিদের রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি টু-ফেজ ডিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রথম দফায় ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ একবারে শেষ করার কথা হবে।
আবার দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধ শেষ করার একটা এগ্রিমেন্ট হবে। যদি যুদ্ধ একবারে শেষ করার বিষয়ে সহমতে পৌঁছতে দেরি হয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির সময় আরও বাড়তে পারে।
যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য অন্য দাবি করেছেন। তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়ে রেখেছেন, ইরানকে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। নইলে সেই দেশের বিভিন্ন জরুরি পরিকাঠামোতে আক্রমণ করা হবে।
নেপথ্যে কী চলছে?
এই রিপোর্ট অনুযায়ী অনেকেই কাজ করছে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে। পাকিস্তান, মিশর এবং তুর্কির মধ্যস্ততাকারীরা একসঙ্গে মিলে কাজ করছে। তাঁরা ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকিফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছির মধ্যে টেক্সট মেসেজ চালাচালি করছে।
এই রিপোর্টে আরও দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইরানকে অনেক শর্ত দিয়েছে। যদিও সেগুলি মানতে নারাজ ইরান। এই রিপোর্ট আরও জানাচ্ছে, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই তরফের মধ্যে কথা চালাচালি হচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুদ্ধ পুরোপুরি থামানোর বিষয়ে কথাবার্তা চলবে। তবে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে সহমতে না পৌঁছন গেলে আরও বাড়ানো হবে যুদ্ধবিরতি।
সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে পারলে এবং ইরানের ইউরেনিয়ামের কিছু একটা ব্যবস্থা করতে পারলেই হল। তাহলেই যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও সেই কাজটা করে ওঠা কতটা সম্ভব হবে, সেটা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।