সরকারি কর্মীদের প্রত্যেক দিনের কাজের হিসেব দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।Nepal Political News: কোনও পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ নয়। নেতা-মন্ত্রীদের সুপারিশে হয়েছিল সরকারি চাকরি। এমন প্রায় ১,৫০০ সরকারি চাকরিজীবীদের একসঙ্গে ছাঁটাইয়ের নির্দেশ দিল নেপাল সরকার। সেদেশে বালেন শাহ সরকার গঠনের পর থেকেই তুমুল কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মীদের প্রত্যেক দিনের কাজের হিসেব দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এহেন আবহে এই সিদ্ধান্ত যে সরকারি কর্মীদের আরও চিন্তা বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
নেপালের রাষ্ট্রপতি Ramchandra Paudel-এর বিশেষ অধ্যাদেশ মেনে এই ছাঁটাই। নেপালের প্রশাসনিক, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য দফতরে চাকরি করতেন এই কর্মীরা। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে সেদেশে।
নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, ২৬ মার্চের আগে এই সরকারি নিয়োগগুলি হয়েছিল। সেগুলি সবই বাতিল করা হয়েছে। মার্চের নির্বাচনে বিপুল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে Rastriya Swatantra Party। সে দলেরই নেতৃত্বে রয়েছেন একদা ব়্যাপার বালেন শাহ (Balendra Shah)।
স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মন্ত্রিসভার সুপারিশে 'Ordinance on Special Provisions for the Removal of Public Office Bearers, 2083' নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল। সেই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পরই বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া বহু আধিকারিকের পদ কার্যত বাতিল হয়ে যায়।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে হওয়া নিয়োগগুলি খতিয়ে দেখা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে ব্যাপক ‘Gen Z’ আন্দোলন হয়। তার জেরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তার কয়েক মাস পর, ৫ মার্চের নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে জনরোষকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় আসে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি।
যদিও নেপালে সরকার বদলের পর আগের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা নতুন নয়। অতীতেও নতুন সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ খতিয়ে দেখেছে। কিন্তু এ বারের পদক্ষেপের পরিধি অনেক বেশি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
‘মাই রিপাবলিকা’ সংবাদমাধ্যমের দাবি, মোট ১,৫৯৪ জন পদাধিকারী এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ২৬ মার্চের আগে হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক নিয়োগ স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়োগের মেয়াদ, সুযোগ-সুবিধা বা চুক্তির শর্ত; কোনও কিছুই এই ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না।
এই সিদ্ধান্তের জেরে একাধিক সরকারি বোর্ড, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংবাদমাধ্যম পরিচালন সংস্থায় শূন্যপদ তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এত বড় সংখ্যায় নিয়োগ বাতিল করলে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। অন্য দিকে সরকারের দাবি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।