Asim Munir Set to Visit US: 'গাজা মিশন' নিয়ে পাকিস্তানে অশান্তি, মুনির ফের কেন আমেরিকায়?

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ফের একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু এবার, এটি কেবল কূটনীতির বিষয় নয়, বরং গাজায় সেনা পাঠানোর মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মিশনের বিষয়ে তাঁর মার্কিন সফর, যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং হিংসার সূত্রপাত করতে পারে।

Advertisement
 'গাজা মিশন' নিয়ে পাকিস্তানে অশান্তি, মুনির ফের কেন আমেরিকায়?পাকিস্তানে অশান্তির মধ্যেই ট্রাম্পকে খুশি করতে পাড়ি আমেরিকায়

পাকিস্তানের সামরিক প্রধান আসিম মুনির, মার্কিন চাপের মুখে গাজায় বাহিনী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন। এই পদক্ষেপ দেশটিতে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তানকে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করতে পারে, তবে এটি বৈদেশিক নীতি এবং জনসাধারণের অনুভূতির দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় উঠছে, কিন্তু সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন চাপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা উপেক্ষা করতে রাজি নন। এদিকে গাজার জন্য প্রস্তাবিত 'স্টেবিলাইজেশন ফোর্সে'  পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ফলত, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আগামী সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে চলেছেন, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন।

পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক প্রধান হিসেবে বিবেচিত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে তার কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি। আমেরিকা চায় পাকিস্তান গাজার জন্য প্রস্তাবিত স্টেবিলাইজেশন ফোর্সে  সৈন্য পাঠাক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

আগামী সপ্তাহে আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন
সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে আসিম মুনির আগামী  সপ্তাহে  ওয়াশিংটন সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি তাঁর তৃতীয় মার্কিন সফর। এই সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং গাজায়  স্টেবিলাইজেশন ফোর্সে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

গাজা প্ল্যানের উপর মার্কিন চাপ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০-দফা গাজা প্ল্যানে গাজায় মুসলিম দেশগুলির একটি যৌথ বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য হল যুদ্ধ-পরবর্তী কালে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। গত দুই বছরে ইজরায়েলি সামরিক হামলায় গাজা মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে, অনেক দেশ এই মিশন নিয়ে শঙ্কিত। গাজায় হামাসের মতো ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা তাদের সরাসরি সংঘাতে টেনে আনতে পারে। তদুপরি, তাদের নিজের দেশের মধ্যে প্যালেস্তাইনপন্থী এবং ইজরায়েল-বিরোধী মনোভাব উস্কে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Advertisement

ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন মুনির
তা সত্ত্বেও, আসিম মুনির ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার করে চলেছেন। বলা হচ্ছে যে এটি ওয়াশিংটন এবং ইসলামাবাদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অবিশ্বাস দূর করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। জুন মাসে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসিম মুনিরের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেছিলেন। এই প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনও অসামরিক কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে একা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের একজন সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন যে পাকিস্তান যদি মিশন থেকে সরে আসে, তাহলে এটি ট্রাম্পকে হতাশ করতে পারে। কুগেলম্যান বলেন, 'যদি পাকিস্তান এই মিশনের অংশ হতে অস্বীকৃতি জানায়, এটি ট্রাম্পকে হতাশ করতে পারে। যা পাকিস্তানের জন্য একটি সমস্যা হয়ে উঠতে পারে, কারণ এটা স্পষ্ট যে কেবল আসিম মুনিরই নয়, পাকিস্তানের সমগ্র অসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহায়তা চায়, যা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থগিত রয়েছে।'

পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার কাছে পরমাণু অস্ত্র আছে
পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র মুসলিম দেশ যার কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। তাদের সেনাবাহিনী ভারতের সঙ্গে  তিনটি যুদ্ধ করেছে এবং এই গ্রীষ্মে দুই দেশের মধ্যে সীমিত সংঘাত হয়েছে। তাছাড়া, পাকিস্তান তার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ করেছে এবং বর্তমানে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। লেখিকা এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ট্রাম্পের আগ্রহ পাকিস্তানের সামরিক শক্তি থেকে উদ্ভূত। তিনি বলেন, 'ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দেখেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই সেনাবাহিনী যুদ্ধ করতে সক্ষম, তাই তিনি এই ধরণের সহযোগিতার ব্যাপারে উৎসাহী।' তবে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, বিদেশমন্ত্রক এবং তথ্য মন্ত্রক  সংবাদ সংস্থার প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। হোয়াইট হাউসও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা 
পাকিস্তানের বিদেশন্ত্রী ইসহাক দার গত মাসে বলেছিলেন যে ইসলামাবাদ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করতে পারে, কিন্তু হামাসকে নিরস্ত্র করা পাকিস্তানের কাজ নয়। এদিকে, এই মাসের শুরুতে, আসিম মুনিরকে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছিল। তার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাছাড়া, তিনি আজীবন ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা পাবেন এবং সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনীর আওতায় তাঁকে ফৌজদারি মামলা থেকে আজীবন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মাইকেল কুগেলম্যান বলেন যে পাকিস্তানের সংবিধানে এমন অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটেছে, যার কারণে আসিম মুনিরের ক্ষমতা প্রায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, আসিম মুনির ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডন, মিশর, আজারবাইজান এবং কাতারের মতো দেশের সামরিক ও অসামরিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। আয়েশা সিদ্দিকার মতে, এই বৈঠকগুলি গাজায় স্টেবিলাইজেশন ফোর্স  সম্পর্কিত পরামর্শের অংশ হতে পারে।

তারপর পাকিস্তানে বিক্ষোভ 
কিন্তু পাকিস্তানের ভেতরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, যদি মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনার অধীনে গাজায় পাকিস্তানি সেনা পাঠানো হয়, তাহলে হাজার হাজার মানুষকে রাস্তায় নামানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামপন্থী দলগুলি বড় আকারের বিক্ষোভ শুরু করতে পারে। অক্টোবরে, একটি শক্তিশালী এবং সহিংস ইজরায়েল-বিরোধী ইসলামপন্থী দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সরকার তাদের নেতা এবং ১,৫০০ জনেরও বেশি সমর্থককে গ্রেফতার করে এবং তাদের সম্পদ এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত  করে। তবে কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংগঠনটির আদর্শ এখনও জীবিত রয়েছে। এছাড়াও, কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দলও আসিম মুনিরের বিরোধিতা করছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাদের সমর্থকরা সর্বাধিক আসন জিতেছিল এবং ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছিল। কুগেলম্যান বলেন, ধর্মীয় চরমপন্থীদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সহিংসতার দিকে পরিচালিত করতে পারে, এমন একটি পরিস্থিতি যা সামরিক বাহিনী দেখতে চাইবে না।

Advertisement

POST A COMMENT
Advertisement