বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্প সহযোগী লুমারেরমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন অনুগত এবং অতি-ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী লরা লুমার বলেছেন, বিশ্বে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রফতানি হল 'ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ'। সেইসঙ্গে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, আমেরিকার শাহবাজ শরিফের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকা উচিত নয়। লুমার নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই মুসলিম-বিরোধী বক্তব্যের জন্য সুপরিচিত লুমার প্রকাশ্যে জিহাদ প্রচারের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আঙুল তোলেন।
ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করে লুমার অভিযোগ করেন, বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সময় তার পাশে থাকা লুমার জোর দিয়ে বলেন যে ভারত এবং ব্রিটিনে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলি পাকিস্তানের চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলির সঙ্গে যুক্ত। লুমার বলেন, 'বিশ্বে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রফতানি হলো ইসলামী সন্ত্রাসবাদ, এবং আমি বিশ্বাস করি না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান সরকারের প্রতি আদৌ সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।'
লরা লুমার নিজেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সমর্থক হিসেবে বর্ণনা করেন । সেই লুমার ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভে বলেন, 'পাকিস্তান একটি প্রকাশ্যে জিহাদি এবং শরিয়া-পন্থী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে, এবং যখন আপনি বিশ্বজুড়ে অনেক ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী হামলার দিকে তাকান, তখন প্রায়শই পাকিস্তানের সঙ্গে কিছু সংযোগ দেখা যায়'। তাঁর দাবির সমর্থনে, লুমার গত সপ্তাহে ট্রাম্প এবং সিনিয়র আমেরিকান রাজনীতিবিদদের হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য আসিফ মার্চেন্ট নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। মার্চেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ইরানের নির্দেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লোক নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সময় ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। লুমার বলেন, 'এই ঘটনাটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে তোলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, সমস্ত সন্ত্রাসবাদ মূলত পাকিস্তান থেকে আসছে।'
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন গত কয়েক মাসে পাকিস্তান এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গেছে। লুমার বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে, 'ইসলামিক সন্ত্রাস' বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি চান না ওভাল অফিসে ইসলামী নেতাদের স্বাগত জানান হোক। তবে লুমার এও বলেন, 'কিন্তু তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তাকে কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে এবং বিশ্বজুড়ে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।'