Pakistan Power Cut News: মুনির ইরানে, শেহবাজ তুর্কিতে, এদিকে লোডশেডিংয়ে ডুবে দেশ, পাকিস্তানে ডামাডোল

দেশ যখন অন্ধকারে ডুবছে, তখন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দেখা নেই। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে ব্যস্ত। অন্যদিকে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির রয়েছেন ইরানে। এই ডামাডোলের বাজারে কাণ্ডারীদের অনুপস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।

Advertisement
মুনির ইরানে, শেহবাজ তুর্কিতে, এদিকে লোডশেডিংয়ে ডুবে দেশ, পাকিস্তানে ডামাডোল১৬ ঘণ্টা আঁধারে পাকিস্তান, তীব্র ক্ষোভ জনমানসে

এমনিতেই ঋণের দায়ে দেউলিয়া দশা, তার ওপর এবার দোসর হলো চরম বিদ্যুৎ সংকট। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ পড়তেই লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি (LNG) সরবরাহ কার্যত লাটে উঠেছে পাকিস্তানে। ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবেছে লাহোর থেকে করাচি। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, ৬০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি প্ল্যান্টগুলি থেকে এখন মাত্র ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ পরিষেবা।

এপ্রিলে গরম বাড়তেই বিদ্যুতের চাহিদা ৯ হাজার থেকে লাফিয়ে ২০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। অথচ জোগানে বিপুল ঘাটতি। বর্তমানে গড়ে ৩ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকলেও রাতে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতেও জলের আকাল। ফলে বাধ্য হয়ে আকাশছোঁয়া দামের ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শাহবাজ প্রশাসনকে, যা মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো চেপে বসেছে অর্থনীতিতে।

দেশ যখন অন্ধকারে ডুবছে, তখন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দেখা নেই। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে ব্যস্ত। অন্যদিকে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির রয়েছেন ইরানে। এই ডামাডোলের বাজারে কাণ্ডারীদের অনুপস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। বিরোধী শিবিরও প্রশ্ন তুলছে, দেশ যখন জ্বলছে, তখন নেতারা বিদেশে কেন?

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ছবিটা শিউরে ওঠার মতো। লাহোর বা ইসলামাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কিন্তু গ্রামের ছবি আরও ভয়াবহ। ফয়সালাবাদ, মুলতান বা খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। করাচিতেও ২ থেকে ১২ ঘণ্টা অন্ধকারে কাটছে মানুষের। কলকারখানা থেকে ব্যবসা, সবই লাটে উঠেছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, সরকারের শিডিউল মানা হচ্ছে না, অঘোষিত লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ।

পড়শি দেশের এই জ্বালানি সংকটের মূলে রয়েছে ইরান পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এলএনজি সরবরাহকারী জাহাজগুলি পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারছে না। জ্বালানি মন্ত্রী ওয়াইস লেঘারি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই বিপর্যয়। যদিও তিনি গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন যে, কেবল পিক আওয়ারে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন ত্রিমুখী সংকটে। একদিকে জ্বালানির অভাব, অন্যদিকে ঋণের বোঝা আর তার সঙ্গে অসহ্য গরম। জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই আঁধার কাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। আপাতত মোমবাতির আলো আর হাঁসফাঁস গরমই পাকিস্তানের আমজনতার ভবিতব্য।

 

POST A COMMENT
Advertisement