
গ্রেফতারি এড়াতে কোন কৌশল ইমরানেরতোশাখানা মামলায় পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেফতার নিয়ে মঙ্গলবার থেকে পাকিস্তানে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। পিটিআই অধ্যক্ষ ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে জামান পার্কে তার বাসভবনে আরও পুলিশ বাহিনী ডাকা হয়েছে। ইমরানের সমর্থকদের কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভের মাঝে পাকিস্তানের পুলিশ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পাশাপাশি , ইমরান এখন বলেছেন যে তিনি ১৮ মার্চ আদালতে হাজির হবেন এবং লাহোর হাইকোর্ট বারের সভাপতি ইশতিয়ার আহমেদ খান তার জামিন দেবেন।
ইমরানের সমর্থকদের বিক্ষোভ
মঙ্গলবার, যখন আদালতের নির্দেশে, ইসলামাবাদ পুলিশের একটি দল ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে লাহোরে তার বাড়িতে পৌঁছেছিল, সেই সময় ইমরানের শত শত সমর্থকও সেখানে পৌঁছায় এবং বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। আর এর পর উত্তেজনা অনেক বেড়ে যায় এবং এমন পরিস্থিতিতে ইমরান খানের সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়াটার ক্যাননও ব্যবহার করা হয়।
এই হিংসার মধ্যে, ইমরান খান নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যাতে তিনি বলেছেন যে তাকে জেলে রেখে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের বর্তমান সরকার। তবে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান আরও বলেছেন যে তিনি মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।
اپنی قوم کو میرا پیغام ہے کہ پوری ہمت و استقامت سے کھڑی ہو اور حقیقی آزادی و قانون کی حکمرانی کیلئے میدانِ عمل میں ڈٹ جائے! pic.twitter.com/ln4hLFu8Sp
— Imran Khan (@ImranKhanPTI) March 14, 2023
তোশাখানা মামলায় তার সম্ভাব্য গ্রেফতারি নিয়ে পিটিআই সমর্থকদের এবং পুলিশের মধ্যে ঝামেলার মাঝেই আল জাজিরার সাথে একটি সাক্ষাৎকারে, ইমরান বলেন, "আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। বাহিনী বেরিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে শুধু পুলিশ নেই, রেঞ্জার্সও আছে মনে হচ্ছে । রেঞ্জার্স যারা সেনাবাহিনী এবং মনে হচ্ছে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জঙ্গি ভিতরে লুকিয়ে আছে। কারণ তারা আমাকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দিতে চায় কারণ তারা আমার দলের জনপ্রিয়তাকে ভয় পায়। আনমা ৩৭টি উপনির্বাচনে এবং ৩০টি নির্বাচনে জিতেছি। এই কারণে তারা আমাকে সরিয়ে দিতে চায়।
ইসি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইসি। তোশাখানা মামলার ভিত্তিতে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইমরান খানকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিষিদ্ধ করে। নির্বাচন কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞার পরে, ইমরান খান সহ পিটিআই নেতৃত্ব দলীয় কর্মীদের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে বলেছিল। এ মামলায় গত বছরের অক্টোবর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন ইমরান।
তোষাখানা মামলা কি?
তোশাখানা হল মন্ত্রিসভার একটি অংশ যেখানে অন্য দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিদেশি অতিথিদের মূল্যবান উপহার রাখা হয়। নিয়মানুযায়ী অন্যান্য দেশের প্রধান বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া উপহার তোশাখানায় রাখা জরুরি। ইমরান খান ২০২৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। আরব দেশগুলোতে সফরকালে তিনি সেখানকার শাসকদের কাছ থেকে দামি উপহার পেয়েছিলেন। এ ছাড়া ইউরোপের অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকেও তিনি মূল্যবান উপহার পেয়েছিলেন, যা ইমরানের তোশাখানায় জমা ছিল। কিন্তু ইমরান খান পরে সেগুলো তোশাখানা থেকে সস্তায় কিনে মোটা লাভে বিক্রি করেন। তার সরকার এই পুরো প্রক্রিয়ার আইনি অনুমতি দিয়েছে। যার জন্য ইমরান এখন চারদিক থেকে ঘেরাও পরিস্থিতিতে রয়েছেন।

একটা দামি কলম, একটা আংটি আর চারটা রোলেক্স ঘড়ি...
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলেন যে এই উপহারগুলি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ২.১৫ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল এবং সেগুলি বিক্রি করে তিনি প্রায় ৫.৮ কোটি টাকা লাভ করেছেন। উপহারের মধ্যে রয়েছে একটি গ্রাফ ঘড়ি, এক জোড়া কাফলিঙ্ক, একটি দামি কলম, একটি আংটি এবং চারটি রোলেক্স ঘড়ি। ইমরান বলেন- এই উপহার আমার, আমি যা খুশি করতে পারি জিও নিউজের মতে, ইমরান একবার বলেছিলেন যে এটি তার উপহার, যা তাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়েছে। তাই এদের উপর তার অধিকার আছে। খান বলেছিলেন যে এই উপহারগুলি তাঁর কাছে রাখবেন কি না তা তাঁর পছন্দ। তবে তোষাখানা বিতর্ক প্রসঙ্গে ইমরান বলেছেন, তোষাখানা থেকে উপহার বিক্রি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ভিত্তিহীন কারণ তারা তোষাখানা থেকে যা কিনেছে তা রেকর্ডে রয়েছে।
১৪ কোটি টাকার ৫৮টি উপহার
খান বলেছিলেন, একটি দেশের রাষ্ট্রপতি আমার বাড়িতে উপহার পাঠিয়েছিলেন, যা আমি তোশাখানায় জমা দিয়েছিলাম। আমি এই উপহারগুলি তাদের আসল দাম থেকে ৫০% ছাড়ে কিনেছি। ইমরান খান তার সাড়ে তিন বছরের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিশ্বের বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে ১৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৫৮ টি উপহার পেয়েছিলেন। আয়কর রিটার্নে এসব উপহার বিক্রির বিবরণ না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।