মিসাইল বানাচ্ছে পাকিস্তান পাকিস্তানকে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসি গবার্ড। তাঁদের পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান এমন ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করছে, যার মধ্যে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই মিসাইল পরমাণু অস্ত্র বহন করে হামলা করতে সক্ষম আমেরিকার ভূখণ্ডেও। এই খবর সামনে আসার পরই পাকিস্তানের মনোভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে।
তুলসীর মতে, পাকিস্তানের কাছে এখনও ICBM (ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল) নেই। তবে শেহবাজ শরিফের দেশ মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে এমনভাবে এগোচ্ছে যে ভবিষ্যতে তারা ICBM তৈরি করতে পারে। আর ঠিক সেই কারণেই চিন্তিত আমেরিকা।
কোন মিসাইল নিয়ে শঙ্কিত ট্রাম্পের দেশ?
পাকিস্তান যে মিসাইল তৈরির চেষ্টা করছে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বা আমেরিকার তরফেও সেই সংক্রান্ত তথ্য সামনে আনা হয়নি। এই মিসাইল ICBM শ্রেণিতে পড়তে পারে। এই মিসাইলের দূরত্ব প্রায় ৫৫০০ কিলোমিটার। পাকিস্তান থেকে আমেরিকার দূরত্ব ১২০০০ কিলোমিটার। ফলে সমুদ্রপথে সেই মিসাইল নিয়ে গিয়ে সহজেই আমেরিকাকে টার্গেট করতে পারবে পাকিস্তান। তুলসি গবার্ডের দাবি, পাকিস্তান বড় রকেট মোটর তৈরি করছে। ভবিষ্যতে ICBM তৈরিতে সাহায্য করবে। এই প্রোগ্রাম কয়েক বছর ধরে চলছে।
পাকিস্তানের হাতে যে সব ক্ষেপনাস্ত্র আছে বর্তমানে
পাকিস্তানের হাতে থাকা ক্ষেপনাস্ত্রগুলোর মধ্যে এখন সবথেকে বেশি দূরত্ব যেতে পারে শাহিন।
পরিসর: ২৭৫০ কিলোমিটার (সম্পূর্ণ ভারতের পাশাপাশি আন্দামান-নিকোবরও কভার করে)
ধরন: সলিড ফুয়েল (তাৎক্ষণিক লঞ্চ সম্ভব)
ধরণ: পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম
দৈর্ঘ্য: প্রায় ১৮ মিটার
অবস্থা: ২০১৫ সালে প্রথম পরীক্ষিত, বর্তমানে কার্যকর
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র আবাবিল।
পরিসর: ২২০০ কিলোমিটার
বৈশিষ্ট্য: MIRV প্রযুক্তি, অর্থাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক পারমাণবিক হেড পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে পড়তে পারে
উদ্দেশ্য: ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা
পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্র:
গৌরি: ১৫০০-২৩৫০ কিমি, লিকুইড ফুয়েল
শাহিন-II: ২৫০০ কিমি
আমেরিকা কেন আতঙ্কে?
তুলসী জানিয়েছেন, রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা সরাসরি আমেরিকাকে নিশানা করতে পারে। পাকিস্তানকে নিয়ে এই উদ্বেগের প্রধান কারণ পাকিস্তানের আগে লক্ষ্যবস্তু ছিল কেবল ভারত। এখন যদি তারা ICBM তৈরি করে তাহলে আমেরিকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়তে পারে। আমেরিকার দাবি, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তান এখন শাহিন-III-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তবে নতুন প্রোগ্রাম ICBM-এর দিকে এগোচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তুলসি গবার্ডের সতর্কবার্তার পরে আমেরিকাও সতর্ক হয়ে উঠেছে।