Pakistan Petrol Crisis: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পেট্রোল-হীন পাকিস্তান, চলবে আর মাত্র ১৪ দিন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জের। বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা। সেই প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের উপরেও। পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দেশে এখন মাত্র ১০ থেকে ১৪ দিনের পেট্রোলের মজুত আছে।

Advertisement
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পেট্রোল-হীন পাকিস্তান, চলবে আর মাত্র ১৪ দিনদেশে এখন মাত্র ১০ থেকে ১৪ দিনের পেট্রোলের মজুত আছে।
হাইলাইটস
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জের, বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা।
  • পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে আগামিদিনে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
  • সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ্যে আনছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জের। বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা। সেই প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের উপরেও। পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দেশে এখন মাত্র ১০ থেকে ১৪ দিনের পেট্রোলের মজুত আছে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে আগামিদিনে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সংগঠনের কর্তারা। করাচিতে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই উদ্বেগের কথা জানান পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আবদুল সামি খান। তাঁর দাবি, দেশে পেট্রোল সরবরাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ্যে আনছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর কথায়, বর্তমানে পাকিস্তানে পেট্রোলের যে মজুত রয়েছে তা মাত্র ১০ থেকে ১৪ দিন চলার মতো। সেই সময়ের মধ্যে নতুন সরবরাহ না এলে দেশ জুড়ে পেট্রোলের সঙ্কট তৈরি হতে পারে। এমনকি অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন ডিলাররা। তাঁর কথায়, 'যদি আমাদের কাছে পেট্রোল সরবরাহ না করা হয়, তা হলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় থাকবে না।'

পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি না পৌঁছালে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই কারণে সিন্ধ পুলিশের আইজি-র কাছে পাম্পগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করার আবেদন জানিয়েছেন খান।

পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, তেল বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি) যে কোটা ব্যবস্থা চালু করেছে তা ডিলারদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, পাম্পগুলিতে গড় বিক্রির ভিত্তিতে পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

খান আরও জানিয়েছেন, ইরান থেকে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর চাপ বেড়েছে। সেই কারণেও জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওগ্রা সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনও জায়গায় পেট্রোল মজুত করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিপো বা পেট্রোল পাম্প ছাড়া অন্যত্র জ্বালানি মজুত করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisement

অন্য দিকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মহম্মদ আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, দেশের সর্বত্র যাতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানি পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার আবহে জ্বালানি সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতও পাকিস্তানের মতো দেশের জন্য বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

POST A COMMENT
Advertisement