আফগানিস্তানই নাকি যত জঙ্গিদের আস্তানা, দাবি পাকিস্তানের'তুমি মহারাজ, সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে...' নিঃসন্দেহে পাকিস্তানকে এমন কথা বলতেই পারে আফগানিস্তান। কারণ জঙ্গিদের 'আঁতুরঘর' হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানই দাবি করছে, আফগানিস্তানই নাকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির আস্তানা। ইসলামাবাদের দাবি, এরফলে আফগানিস্তান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উঠে আসছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ আফগানিস্তান প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এই দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, "আজ আফগানিস্তান জঙ্গি সংগঠন ও তাদের প্রক্সিদের জন্য আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।" তাঁর দাবি, এই মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিফলিত হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ আফগানিস্তানের ভিতরে নিরাপদে ঘাঁটি গড়ে তুলেছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP), বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA) ও তাদের মাজিদ ব্রিগেড, ইসলামিক স্টেট–খোরাসান প্রভিন্স (ISIL-K), আল-কায়দা এবং ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ETIM)।
ইফতিখারের দাবি, এই সংগঠনগুলো সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, হিংসাত্মক হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই ঘটনাগুলি পাকিস্তানের জন্য বড়সড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ও পুরো এলাকাকে অশান্ত করে তুলেছে।
পাকিস্তানের দাবি, পড়শি দেশে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। গত মাসেই জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানে ১৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে তিনটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য বিষয় হল, তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। আসলে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত রেখা ডুরান্ড লাইন রয়েছে। এটি প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ। আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। এক্ষেত্রে কাবুলের যুক্তি, এটি একটি আরোপিত ঔপনিবেশিক সীমানা যা অবৈধভাবে করা হয়েছিল।
সম্প্রতি, খাইবার পাখতুনখোওয়া ও বালুচিস্তানে বালুচ লিবারেশন আর্মির দাপটে বিপাকে পড়েছে পাকিস্তানি সেনা। এই দুটি প্রদেশ কার্যত মূল পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে সচেষ্ট। ফলে বেড়েছে হিংসাত্মক কার্যকলাপ। আর জেরে মাথায় হাত পড়েছে পাকিস্তানের।