'শাহবাজের জুতো পালিশের অভ্যাস' ট্রাম্পের বোর্ডে শামিল হওয়ায় ক্ষিপ্ত গোটা পাকিস্তান

পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, দাভোসে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
'শাহবাজের জুতো পালিশের অভ্যাস' ট্রাম্পের বোর্ডে শামিল হওয়ায় ক্ষিপ্ত গোটা পাকিস্তান

মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্কে জড়াল পাকিস্তান। গাজা সংকটকে সামনে রেখে এই বোর্ড গঠনের কথা বলা হলেও, শেহবাজ শরিফ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন কূটনীতিক, মন্ত্রী, সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। রবিবার ট্রাম্পের পাঠানো আমন্ত্রণ গ্রহণ করার কথা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক।

পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, দাভোসে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ‘বোর্ড অফ পিস’-কে অনেকেই রাষ্ট্রপুঞ্জের বিকল্প মঞ্চ হিসেবে দেখছেন।

তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি। তাঁর প্রশ্ন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলে এই বোর্ড কতদিন টিকবে। একই সঙ্গে তিনি ইজরায়েলের সঙ্গে একই মঞ্চে পাকিস্তানের অবস্থানকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেন। প্রাক্তন আইনমন্ত্রী বাবর আওয়ান আরও একধাপ এগিয়ে এই সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনি ইস্যুতে বিশ্বাসঘাতকতা বলে আখ্যা দেন। তাঁর কটাক্ষ, শেহবাজ শরিফের এই পদক্ষেপ আসলে ক্ষমতার কাছে নতজানু হওয়ারই প্রতিফলন।

পাকিস্তানের বিশিষ্ট সাংবাদিক বাকির সাজ্জাদ এই ঘটনাকে মুসলিম বিশ্বের দ্বিচারিতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বললেও বাস্তবে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন সেনেটর মুস্তাফা নওয়াজ খোখর সংসদে আলোচনা ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সমালোচনার সুর শোনা গিয়েছে সমাজমাধ্যমেও। একাধিক আইনজীবী এই বোর্ডকে ‘ঔপনিবেশিক প্রকল্প’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, স্থায়ী সদস্যপদের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। ইমরান খান ঘনিষ্ঠ ও প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ওমর মাহমুদ হায়াত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই মঞ্চে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। সমাজমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বহু মানুষ, যেখানে ‘লানত’ ও তীব্র নিন্দার ভাষাই বেশি চোখে পড়ছে।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement