পাকিস্তান-তুরস্কের নতুন চাল (Screen grab: X/@MOD_Qatar)পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গিয়েছে। ঠিক তার দু'মাসের মধ্যেই বুধবার দোহায় নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করল পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার এবং ইন্দোনেশিয়া। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
'বদর মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং' নামে এই চুক্তিতে সই করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, চার দেশের মধ্যে কৌশলগত পার্টনারশিপ আরও গভীর করা এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোই এই চুক্তির উদ্দেশ্য।
প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রশিক্ষণে জোর
এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্ট করেছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেখানে এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলির মধ্যে যৌথ সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে।
এই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতা, অংশগ্রহণকারী দেশগুলির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্পের বিকাশেও জোর দেওয়া হবে। এর ফলে চারটি দেশ নিজেদের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে একত্রিত করে নতুন ধরনের সামরিক চাহিদা মোকাবিলা করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মক্কা চুক্তির সঙ্গে বদর চুক্তির পার্থক্য কোথায়?
গত অগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির প্রায় দু’মাস পরেই সামনে এল নতুন বদর চুক্তি।
মক্কা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিনটি দেশের মধ্যে যে কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের উপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলির মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে, বদর চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন কাঠামোয় যুক্ত হল কাতার ও ইন্দোনেশিয়া। তবে এই চুক্তির ঘোষিত লক্ষ্য মূলত প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সক্ষমতার বিকাশ। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার উপর জোরা দেওয়া হবে এই চুক্তিতে।
এক্ষেত্রে কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে অন্য দেশগুলিকেও যুদ্ধে নামতে হবে, এমন কোনও শর্ত বদর চুক্তির ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে উল্লেখ করা হয়নি।
গালফ অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি হয়েছে। এই আবহেই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। একই সঙ্গে এমন ইঙ্গিতও মিলছে যে ইরানের সঙ্গে ফের সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে পারে আমেরিকা।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী দেশগুলির মধ্যে ডিফেন্স পার্টনারশিপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।