
পেরুর পুন্তা সান হুয়ান অঞ্চলে বিপাকে পড়েছে পেঙ্গুইনরা। ওই এলাকায় ক্রমেই কমে যাচ্ছে হামবোল্ট পেঙ্গুইনের সংখ্যা। বৈজ্ঞানিকরা দাবি করেন একসময় এখানে প্রায় ৩,০০০ পেঙ্গুইনের আবাসস্থল ছিল। কিন্তু ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের সংখ্যা ৫০০-এরও কমে নেমে আসে। ফলে এমনিতেই সেখানে পেঙ্গুইন সঙ্কট। তারইমধ্যে সমুদ্রের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং একটি সম্ভাব্য 'সুপার এল নিনো' এই পেঙ্গুইনদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
পুন্তা সান হুয়ান পেরুর দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ১৩৩ একরের একটি সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা। এই আবাসস্থলটি হামবোল্ট পেঙ্গুইন এবং অন্য অনেক সামুদ্রিক পাখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২২ এবং ২০২৩ সালে, বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব এখানে প্রচুর পেঙ্গুইনের মৃত্যুর কারণ হয়। এর পরে এল নিনো এবং সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঙ্গুইনদের পক্ষে খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আদতে হামবোল্ট পেঙ্গুইনরা পেরু ও চিলির শুষ্ক উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে। এদের প্রধান খাদ্য হলো অ্যাঙ্কোভি মাছ। পেরুর উপকূলের পাশ দিয়ে হামবোল্ট স্রোত নামে একটি শীতল সামুদ্রিক স্রোত প্রবাহিত হয়। এই জল পুষ্টিতে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি মাছের একটি ভালো উৎস।
কিন্তু, এল নিনোর সময় সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এটি সমুদ্রস্রোত এবং মৎস্যচাষকে প্রভাবিত করে। অ্যাঙ্কোভি মাছ গভীর জলে বা তীর থেকে আরও দূরে চলে যায়, ফলে পেঙ্গুইনদের খাবারের সন্ধানে আরও দূরে সফর করতে হয়। খাদ্যের অভাব দেখা দিলে পেঙ্গুইনরা তাদের ডিম ও বাসা পরিত্যাগ করতে পারে। কেউ কেউ অন্য এলাকায় চলে যায়, এমনকি খাবারের সন্ধানে যেতে যেতে মারাও যায়।
বলা হয়, ২০১২ সালে পুন্তা সান হুয়ানে প্রায় ৩,০০০ হামবোল্ট পেঙ্গুইন ছিল। ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা কমে ৫০০-এরও কম হয়ে যায়। তবে বিজ্ঞানীরা অনেক খালি বাসা এবং ডিম দেখতে পেয়েছেন। সমগ্র পেরুর উপকূল বরাবরও পেঙ্গুইনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালে বিভিন্ন দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১৫,৬৬৩টি হামবোল্ট পেঙ্গুইন গণনা করা হয়েছিল। ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা কমে প্রায় ৫,৪০০-এ নেমে এসেছে।
বার্ড ফ্লুও এক ভিলেন
পেঙ্গুইনের সংখ্যা হ্রাসের একটি প্রধান কারণ হল বার্ড ফ্লু। ২০২২ এবং ২০২৩ সালে, এই রোগটি পেরুর জলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামুদ্রিক পাখির পাশাপাশি সিলের মতো প্রাণীদেরও আক্রান্ত করে। পরবর্তী এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও সঙ্গীন করে তোলে।