ভারতের স্ট্র্যাটেজি কী? UAE-র পর বাহরিন-সৌদিতেও ফোন মোদীর, কী বললেন?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ। ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার আবহে কার্যত অস্থির গোটা পশ্চিম এশিয়া। এহেন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল নয়াদিল্লি।

Advertisement
ভারতের স্ট্র্যাটেজি কী? UAE-র পর বাহরিন-সৌদিতেও ফোন মোদীর, কী বললেন? এ বার বাহরিন ও সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
হাইলাইটস
  • মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ।
  • ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার আবহে কার্যত অস্থির গোটা পশ্চিম এশিয়া।
  • এহেন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল নয়াদিল্লি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ। ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার আবহে কার্যত অস্থির গোটা পশ্চিম এশিয়া। এহেন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল নয়াদিল্লি। এ বার বাহরিন ও সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরান-হামলার প্রেক্ষিতে তিনি কড়া ভাষায় নিন্দা জানান। স্পষ্ট করে দেন, সঙ্কটের এই সময়ে ভারত তার বন্ধু দেশগুলির পাশে রয়েছে।এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমে বাহরিনের রাজা কিং হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। বাহরিনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই গোটা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এদিনের কথোপকথনের অন্যতম আলোচ্যই ছিল বাহরিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা। উল্লেখ্য, বাহরিনে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় প্রবাসী কর্মরত। নির্মাণ, স্বাস্থ্য, পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানানো হয়েছে।

এর পরেই সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মোদী। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে মোদী বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতের কৌশল স্পষ্ট। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষেই অবস্থান ভারতের। এক দিকে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার টানাপোড়েন, অন্য দিকে উপসাগরীয় দেশগুলিতে বিপুল ভারতীয় প্রবাসীর উপস্থিতি; দু’দিক সামলাতেই সতর্ক পদক্ষেপ করছে দিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও অ্যাকটিভ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি আমদানি থেকে শুরু করে পরিকাঠামো বিনিয়োগ; বহু ক্ষেত্রেই পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। তাই ইরান হামলা ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ অমূলক নয় বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

সব মিলিয়ে, ইরান-হামলা ও মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের আবহে প্রধানমন্ত্রী মোদীর একের পর এক কূটনৈতিক ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশ্লেষকদের। শান্তির পক্ষে অবস্থান, হামলার নিন্দা এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার; এই তিন বার্তাই স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরেছে ভারত।

POST A COMMENT
Advertisement