PoK-তে 'জালিয়ানওয়ালাবাগ' ঘটাল পাক রেঞ্জাররা, নির্বিচারে গুলিতে মৃত্যু মিছিল

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চরম নৃশংসতার ঘটনা। সক্রিয় বেসামরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানের রাওয়ালকোটে।

Advertisement
PoK-তে 'জালিয়ানওয়ালাবাগ' ঘটাল পাক রেঞ্জাররা, নির্বিচারে গুলিতে মৃত্যু মিছিলPoK-তে বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি
হাইলাইটস
  • পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চরম নৃশংসতার ঘটনা।
  • JAAC-র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানের রাওয়ালকোটে।
  • বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চরম নৃশংসতার ঘটনা। সক্রিয় বেসামরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানের রাওয়ালকোটে। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি জখম হয়েছেন আরও ৭০ জন। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানে ডাকা হরতালের মধ্যেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তরফে জানানো হয়েছে, POK-তে পাকিস্তানি রেঞ্জারদের হাতে শাহজেব হাবিব নামের এক প্রতিবাদীর মৃত্যুর পর সেখানের রাওয়ালকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চলছিল শোকজ্ঞাপন অনুষ্ঠান।  JAAC সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হয়ে শোকজ্ঞাপন করছিলেন। অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী অতি সক্রিয়তা দেখাতে শুরু করলে সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুঞ্চ সেক্টর কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, হিংসার ঘটনায় ৪ জন পুলিশ ও একজন পথচারী নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু 'দাঙ্গাবাজ' লোক নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। তার মতে, পাল্টা হামলায় ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। পুলিশ কর্তা লিয়াকত মালিক বলেন, ২৩ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

তবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও JAAC সমর্থকরা সরকারের দাবির উপর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি হতে পারে। JAAC-র তরফে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর ফলে কমপক্ষে ২৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন ২০০-এর বেশি বিভোক্ষকারী, আটক করা হয়েছে প্রায় ১০০ জন প্রতিবাদীকে।

কেন POK-তে বিক্ষোভ শুরু হল?

POK-র বিধানসভার ১২টি সংরক্ষিত আসন সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। ৪৫ সদস্যের এই বিধানসভায় আসনগুলো এমন শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত, যারা কাশ্মীরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক দাবি করেন কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে বসবাস করেন ।

Advertisement

POK-র এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে পাক প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। এমনকি বিশ্বের একাধিক দেশ এই বিষয়ের দিকে নজর দিয়েছে। ইসলামাবাদে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাস POK-তে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভের আগে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটেনেও বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ফলে POK-র ঘটনায় বিশ্বের দরবারে আবারও মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement