POK Leader Allegation: 'কাশ্মীরিদের অস্ত্র দিয়েছে পাক সেনা, তারাই এখন জঙ্গি বলছে...' ইসলামাবাদের ভণ্ডামি নিয়ে সরব PoK নেতা

পাকিস্তানের সেনাই কাশ্মিরীদের হাতে অস্ত্র দিয়েছে। এখন তারাই আবার সন্ত্রাসী বলছে। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন নেতা।

Advertisement
'কাশ্মীরিদের অস্ত্র দিয়েছে পাক সেনা, তারাই এখন জঙ্গি বলছে...' ইসলামাবাদের ভণ্ডামি নিয়ে সরব PoK নেতা পাকিস্তানের নেতার কী দাবি?
হাইলাইটস
  • পাকিস্তানের সেনাই কাশ্মিরীদের হাতে অস্ত্র দিয়েছে
  • এখন তারাই আবার সন্ত্রাসী বলছে
  • এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই গর্জে উঠলেন নেতা

ফের প্রকাশ্যে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা। এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এক নেতাই ইসালামাবাদের ভণ্ডামির দিকে আঙুল তুললেন। পিওকে-এর বিক্ষোভ আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, অতীতে কাশ্মীরিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীই। তবে তারপর এই স্থানীয় আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসবাদী বলে দাগিয়ে দিচ্ছে ইসলামাবাদ। আর এটাকে তিনি পাক সরকারের ভণ্ডামি বলেই মনে করছেন। আর বিক্ষোভের ২৪তম দিনে এই নেতার মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাওয়ালাকোট ইদগাহ ময়দানে এক সমাবেশে ৮০ হাজারেরও মানুষ বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখছিলেন যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জ্যাক)-এর নেতা সর্দার আমান খান। তখনই তিনি বলেন, 'তারা বলে আমরা সন্ত্রাসবাদী। কিন্তু বাস্তব হল, কাশ্মীরিদের হাতে বন্দুক তুলে দিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীই। কাশ্মীরিদের কাছে অস্ত্র ছিল, কারণ পাকিস্তান সেনাই সেই অস্ত্র দিয়েছিল। পুরো পাকিস্তান সেনাবাহিনীই জড়িত এতে। আর আজ তারা কিনা আমাদের সন্ত্রাসবাদী বলছে?'

আর আমান খানের এই বক্তব্য নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক চরমে উঠেছে। বর্তমানে এই আন্দোলনের সময় এহেন কড়া বক্তব্যে টনক নেড়েছে ইসলামাবাদেরও।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলির যোগাযোগ রয়েছে। সেই কারণেই চলতি বছরের শুরুতে রাওয়ালাকোটে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের একটি প্রকাশ্য কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন।

খানের আরও দাবি, রাওয়ালাকোটের ডেপুটি কমিশনার ওই কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছিলেন। সেই সময় সশস্ত্র জঙ্গিরা অ্যাসল্ট রাইফেল ও তলোয়ার নিয়ে শহরে মিছিল করেছিল। যদিও বক্তৃতার সময় উপস্থিত জনতা বারবার হাততালি দেয়। যার ফলে এটা বোঝাই যাচ্ছে যে তাঁর দিকে জনসমর্থনে রয়েছে। 

এই সভা থেকেই জ্যাক নেতৃত্ব ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের ৩৮ দফা দাবি মেনে কার্যকর করতে হবে। তা না হলে মুজাফ্ফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিলের ডাক দেওয়া হতে পারে।

নেতারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সেই মিছিল হয়, তাহলে আন্দোলনের দাবি শুধু এখনকার ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তখন পাকিস্তানের পিওকে থেকে সম্পূর্ণ সরে যাওয়ার দাবিও আন্দোলনের অংশ হতে পারে।

Advertisement

মাথায় রাখতে হবে, পাকিস্তান সরকারের উপর কয়েক বছর ধরেই খাপ্পা পিওকে-এর বাসিন্দারা। তারা এখন সেখানকার মানুষের বৃহত্তর অধিকার, অর্থনৈতিক অবস্থা বদল এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি তুলছেন। আর এই সব দাবির সঙ্গে লড়াই করাই এখন পাক সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

মূলত যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুতের লাগামছাড়া বিল, ভর্তুকিযুক্ত গমের অভাব এবং বাড়তে থাকা মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement