পাকিস্তানে নৃশংস হত্যাকাণ্ড পাক আর্মিরPOK Violence Asim Munir Army: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বা পিওকে-তে আমজনতার উপর পাক সেনা ও পুলিশের চরম বর্বরতার এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে যে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বাহিনীর নির্মম অত্যাচারে সেখানে কার্যত এক রক্তক্ষয়ী গণহত্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে নিজেদের মৌলিক অধিকার ও মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে পাক বাহিনী নির্বিচারে গুলি এবং লাঠিচার্জ শুরু করেছে যার জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা মুজফফরাবাদ এবং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।
পাক সরকারের চরম উদাসীনতা ও সেনার এই বর্বরোচিত দমনপীড়নের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আগুন এখন দাউদাউ করে জ্বলছে। খাদ্যদ্রব্যের আকাশছোঁয়া দাম ও বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পাক সেনার হাত থেকে মুক্তির এক গণবিদ্রোহে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ যে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করতে আসিম মুনিরের অনুগত সেনা জওয়ানেরা নির্বিচারে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে আধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে যার ফলে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানেও চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতে এই গণহত্যার খবর বাইরের দুনিয়ায় না ছড়াতে পারে। তা সত্ত্বেও সীমান্ত পেরিয়ে আসা একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ছবি ও খবর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় যেভাবে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাক সেনার এই নারকীয় তাণ্ডবের কারণে গোটা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে এখন তীব্র আতঙ্ক এবং গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।