দুবাইয়ের রাস্তায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এক বিশেষ মহিলা। ৭৪ বছর বয়সী ভারতীয় রাধামণি আম্মা, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়েছেন ‘ড্রাইভার আম্মা’ নামে। শাড়ি পরে বিলাসবহুল রোলস-রয়েস ঘোস্ট চালানোর ভিডিও তাকে রাতারাতি বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি আর প্রাণবন্ত হাসিতে তিনি কেবল চালকের আসনেই নয়, কোটি মানুষের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন।
শাড়িতে রোলস-রয়েস চালানো, ভাইরাল ভিডিও
দুবাই সবসময়ই বিলাসিতা আর জাঁকজমকের শহর হিসেবে খ্যাত। কিন্তু যখন একজন বয়স্ক ভারতীয় মহিলা শাড়ি পরে রোলস-রয়েস চালান, সেটি হয়ে ওঠে এক অনন্য দৃশ্য। রাধামণি কেবল দক্ষতার সঙ্গেই গাড়ি চালান না, তার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্সও প্রমাণ করে, বয়স কখনও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। এই কারণেই ভিডিওটি সীমান্ত পেরিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১১ ক্যাটাগরির যানবাহনে দক্ষ চালক
‘ড্রাইভার আম্মা’র পরিচয় কেবল বিলাসবহুল গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। তার ড্রাইভিং লাইসেন্সে রয়েছে ১১ ধরনের যানবাহনের অনুমতি। রোলস-রয়েস ও মার্সিডিজের মতো প্রিমিয়াম গাড়ি থেকে শুরু করে বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, ক্রেন, এমনকি রোড রোলারও চালাতে পারেন তিনি। এতবড় বহুমুখী দক্ষতা দেখে অবাক হয়েছেন সবাই।
কেরালা থেকে দুবাই: অনুপ্রেরণার যাত্রা
রাধামণির ড্রাইভিংয়ের গল্প শুরু ১৯৭৮ সালে, যখন তার স্বামী কেরালায় একটি ড্রাইভিং স্কুল খোলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনিই স্কুলের দায়িত্ব নেন, চালিয়ে নেন সংসার। পরে দুবাইয়ে এসে সেই আবেগকেই পুঁজি করে নতুন যাত্রা শুরু করেন। আজ তার গল্প মানুষকে শেখাচ্ছে, জীবনের যে কোনও মোড়েই নতুন দিক খোঁজা সম্ভব।
শিল্পপতিদের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, শীর্ষ শিল্পপতিরাও মুগ্ধ হয়েছেন ‘ড্রাইভার আম্মা’র গল্পে। আনন্দ মাহিন্দ্রা এক টুইটে লিখেছেন, তার ‘বেঁচে থাকার খিদে’ সত্যিই প্রশংসনীয়।