প্রতীকী ছবি নিজের মুখ দিয়েই যদি অতিরিক্ত টাকা আয় করা যায়? তাও আবার শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে নয়। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই একটি নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষ তাঁদের মুখের ডিজিটাল অবয়ব ব্যবহারের অধিকার AI-নির্ভর বিজ্ঞাপন এবং গেমের নির্মাতাদের কাছে লাইসেন্স দিতে পারছেন। আর তার থেকে আয় করছেন হাজার হাজার টাকা। অর্থাৎ, অভিনয় না করেও কোনও AI চরিত্রের মুখ হিসেবে নিজের চেহারা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে এই ধরনের মুখের লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজ মূলত ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন চ্যাট গ্রুপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে এই পরিষেবা ক্রমশ সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে আসতে শুরু করেছে। ফলে নিজের মুখও এখন নির্দিষ্ট শর্তে লাইসেন্স দেওয়ার মতো একটি ডিজিটাল সম্পদ হয়ে উঠছে।
প্রক্রিয়াটিও খুব জটিল নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে গিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এরপর পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়। তারপর তৈরি করা হয় একটি প্রোফাইল। AI-নির্ভর কনটেন্টের নির্মাতারা সেই প্রোফাইলগুলি দেখে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী মুখ বেছে নিতে পারেন।
চিনের Shenzhen-ভিত্তিক Yuanxiang Xinsheng এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম। মে মাসে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন ও পরিচয় যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিজিটাল অ্যাকটর প্রোফাইল তৈরি করতে পারেন ।
প্রশ্ন হল, AI যখন নিজের মতো করে অসংখ্য মুখ তৈরি করতে পারে, তখন কোনও মানুষের আসল মুখের জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে কেন? এর উত্তর পুরোপুরি এক নয়। কিছু নির্মাতার মতে, এমন মুখের প্রয়োজন হতে পারে যা দেখতে স্বতন্ত্র, আকর্ষণীয় অথবা দর্শকের কাছে বাস্তব বলে মনে হয়। আবার নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মুখেরও চাহিদা থাকতে পারে। মজার বিষয় হল, সব বয়সের মানুষই এতে যোগ দিতে পারছেন। অর্থাৎ নিজের মুখ বিক্রি করতে পারছেন।
তাহলে কত টাকা পাওয়া যাচ্ছে?
এই আয়ের পরিমাণ একেবারেই নির্দিষ্ট নয়। SCMP-এর প্রতিবেদনে এমন এক ব্যাঙ্ককর্মীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি মাত্র তিন দিনে তাঁর পোট্রেট সাতবার ব্যবহারের জন্য প্রায় ২,৫০০ ইউন বা প্রায় ৩৭০ মার্কিন ডলার পেয়েছেন।
তবে সব ক্ষেত্রে অঙ্কটা এত বেশি নয়। প্রায় ১৫ থেকে ৭৪ মার্কিন ডলার পেয়েছেন । সংস্থাটির প্রায় ৮০০ জন রেজিস্ট্রার্ড ছিলেন। এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন নিজেদের লাইসেন্স দিতে রাজি হয়েছিলেন।। তবে এটিকে সাধারণ মানুষের নিশ্চিত বা স্বাভাবিক আয়ের পরিসর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে প্ল্যাটফর্ম, প্রোডাকশন, কতদিন মুখ ব্যবহার করা হবে তার উপর নির্ভর করে।
তবে এই ব্যবস্থার সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। নিজের মুখ একবার লাইসেন্স দেওয়ার পরে সেটি কোথায়, কীভাবে এবং কতদিন ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। একটি বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, লাইসেন্স করা ডিজিট্যাস মূল ব্যবহারের বাইরেও অন্যভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
ভারতেও কি নিজের AI মুখ বিক্রি করা যাচ্ছে?
ভারতেও এই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে অভিনেত্রী রেহা চক্রবর্তী কালেকটিভ আর্টিস্ট নেটওয়ার্ক এবং গ্যালারি5 মিলে 'Mishty’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। Mint-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সেই প্ল্যাটফর্ম খতিয়ে দেখছে কীভাবে মানুষের মুখ ব্যবহার করছে।
তবে চিনের মডেলটি কিছুটা আলাদা। সেখানে শুধু তারকা বা পরিচিত ব্যক্তিত্ব নয়, সাধারণ মানুষও তাঁদের মুখও বিজ্ঞাপন বা গেমে ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দিয়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিজ্ঞানীদের দাবি, ভবিষ্যতে নিজের মুখও হয়তো একটি লাইসেন্সযোগ্য ডিজিট্য়াল অ্যাসেট হয়ে উঠবে। কিন্তু সেই মুখ থেকে টাকা উপার্জনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, কত টাকার বিনিময়ে একজন তার মুখ ব্যবহারের লাইসেন্স দেবেন।