
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রধান নরেন্দ্র মোদীর ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। পুতিন বলেন, 'দুই দেশের মধ্যে ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদী ইউক্রেনে চলা সংঘাতের অবসানের বিষয়টি ধারাবাহিক ভাবে উত্থাপন করেছেন। এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উপায় খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা ভাবনা কাজে লাগানো যেতে পারে।'
প্রেসিডেন্ট পুতিন আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী। এবং তাঁর কাছে এমন ভাল উপায় রয়েছে যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখেন, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী। তাঁর এই ধারণার জন্য কৃতজ্ঞ।'
শান্তিপূর্ণ ভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদৃষ্টি ও আকাঙ্খার প্রতি পুতিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'ওঁর লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণ ভাবে সংঘাতের অবসান ঘাটনো এবং এ ব্যআপারে তাঁর প্রচেষ্টাকে রাশিয়া সাধুবাদ জানায়।'
জাপান সফরের সময় অগাস্টে জাপানি সংবাদমাধ্যম দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারত বরাবরই নীতিগত ও মানবিক অবস্থান বজায় রেখেছে। এই অবস্থানকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, দু’জনেই সমানভাবে প্রশংসা করেছেন।' মোদী জানান, সংঘাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে দুই দেশের নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন।
মোদীর কথায়, 'ভারতের নীতিগত ও ধারাবাহিক অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করার পাশাপাশি সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের জন্য দুই নেতাকেই আহ্বান জানাচ্ছি।'
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয় সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল Programme for Economic Cooperation 2030 বাস্তবায়ন। পাশাপাশি পরিকাঠামো, শক্তি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।