মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।Saudi Arabia uranium discovery: মধ্যপ্রাচ্য মানেই খনিজ তেল। শেখ। বড় বড় বাড়ি। দামি গাড়ি। এলাহি ব্যাপার। সবেরই উৎস সেই পেট্রোল-ডিজেল। সেই খনিজ তেল নিয়ে বিশ্বজুড়ে অশান্তিও কম নয়। তবে তেলও তো সীমিত। তেলের ভাণ্ডার শেষ হল বলে সবাই যখন প্রমাদ গুনছে, তখনই বড় ঘোষণা করল সৌদি আরব। মদিনায় বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান মিলেছে। দাবি সৌদি সরকারের। সৌদির জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সলমন জানিয়েছেন, মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্পে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেই আকরিকের মধ্যে ইউরেনিয়াম এবং বিরল খনিজ রয়েছে বলে দাবি সেদেশের।
সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাবাল সায়িদ এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অনুসন্ধান এবং ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা চলছিল। সেই কাজেই এই বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে। বিশেষ করে ভারী ধরনের বিরল খনিজের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউরেনিয়ামের ঘনত্বও বেশ আশাজনক বলে দাবি সৌদি জ্বালানি মন্ত্রীর।
তবে এই ঘোষণার অর্থ এই নয় যে ১১ কোটি টন খাঁটি ইউরেনিয়াম পাওয়া গিয়েছে। এখানে ১১ কোটি টন বলতে ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ আকরিকের আনুমানিক সম্পদের কথা বলা হচ্ছে। আকরিকের মধ্যে থাকা ইউরেনিয়ামের প্রকৃত পরিমাণ এবং তা বাণিজ্যিক ভাবে উত্তোলন কতটা সম্ভব, তা আরও বিশদ অনুসন্ধানের বিষয়।
মদিনার এই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মদিনা ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর। মক্কার পাশাপাশি এই শহরের ধর্মীয় গুরুত্ব গোটা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত বেশি। সেই মদিনার কাছে ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ার খবর স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু ধর্মীয় কারণে নয়। সৌদি আরব গত কয়েক বছর ধরে তেল নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। দেশের অর্থনীতিকে আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসাবে খনিজ এবং পরমাণু শক্তির উপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে রিয়াদ।
সৌদির ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য হল দেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করা। তেলের পাশাপাশি খনিজ সম্পদ, শিল্প, প্রযুক্তি এবং শক্তির অন্য উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
পরমাণু শক্তির দিকে নজর সৌদির
সৌদি আরব বেসামরিক পরমাণু শক্তি কর্মসূচি নিয়েও এগোচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরমাণু শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইউরেনিয়াম সেই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।
সম্প্রতি আমেরিকা এবং সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু শক্তি কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিও হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদির পরমাণু শক্তি পরিকাঠামো তৈরিতে আমেরিকার সংস্থাগুলিও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারে।