ধেয়ে আসছে সৌর সুনামি এবার সৌর সুনামি ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। সূর্যে হচ্ছে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ। সেই কারণেই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে পারে সৌরঝড়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, অতি উত্তপ্ত প্লাজমার বিশাল ঢেউ ধেয়ে আসতে পারে। এটাকেই ‘সোলার সুনামি’ বা সৌর সুনামি বলা হয়।
আর মহাকাশের আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে মৃদু থেকে শক্তিশালী ভূচৌম্বকীয় ঝড় হতে পারে। এমনকী এই সুনামী দেখা যেতে পারে চোখেও। এক্ষেত্রে সপ্তাহান্তে আকাশে দেখা যেতে পারে অপূর্ব মেরুজ্যোতি বা অরোরা।
যদিও কোথায় ও কতটা স্পষ্টভাবে এই আলোর খেলা দেখা যাবে, তা নির্ভর করবে সৌরঝড়ের তীব্রতা ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের অবস্থানের উপর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কবে আসছে সৌরঝড়?
মহাকাশের আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর এবং ১১ অক্টোবর পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের উপর আঘাত হানতে পারে সর্বোচ্চ তিনটি করোনাল মাস ইজেকশন। এই বিস্ফোরণের ফলে সূর্য থেকে বিপুল পরিমাণ আধানযুক্ত কণা এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলি পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করলে ভূচৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হতে পারে।
এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়ের তীব্রতা G1 বা মৃদু থেকে G3 বা শক্তিশালী স্তর পর্যন্ত হতে পারে। তাই এই বিষয়টার দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঝড়ের তীব্রতা বেশি হলে মেরুজ্যোতি বা রঙিন আলোর খেলা দেখার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে সেটা যে দেখা যাবেই, এটা নিশ্চিত নয়। সৌর পদার্থের সঙ্গে আসা চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের শক্তি ও দিকের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
সূর্যে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের জন্য 'সোলার সুনামি'
৮ অক্টোবর থেকে হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্য। ওই দিন Sunspot 4549 নামে পরিচিত সৌরকলঙ্ক থেকে ফের বিস্ফোরণ হয়। এর ফলে M6.7 শ্রেণির একটি সোলার ফ্লেয়ার তৈরি হয়।
M-শ্রেণির সোলার ফ্লেয়ারকে মাঝারি শক্তিশালী বিস্ফোরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের বিস্ফোরণের ফলে রেডিও যোগাযোগে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশের আবহাওয়ায় অন্যান্য প্রভাবও বাড়তে পারে।
এই বিস্ফোরণের ফলে সূর্যের বায়ুমণ্ডল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল এক সৌর সুনামি। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে মোরটন ওয়েভ বা মোরটন তরঙ্গ বলা হয়। শক্তিশালী সৌর বিস্ফোরণের পর সূর্যের বায়ুমণ্ডলে উত্তপ্ত প্লাজমা এবং চৌম্বকীয় শক্তির বিশাল তরঙ্গ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আর জানলে অবাক হবেন, এই তরঙ্গের আঘাতের সামনের অংশের বিস্তার পৃথিবীর আকারের তুলনায়ও বেশ বড় হতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ লক্ষ মাইলেরও বেশি হতে পারে।
আসলে তরঙ্গটি ছড়িয়ে পড়ার সময় সূর্য থেকে একটি করোনাল মাস ইজেকশন বা CME-ও নির্গত হয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই CME-টি ১১ অক্টোবর পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।
পৃথিবীতে কি ভূচৌম্বকীয় ঝড় হবে?
সৌর বিস্ফোরণের ফলে নির্গত CME-র পৃথিবীতে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আশা করা হচ্ছে ১১ অক্টোবর পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে এটা অতিক্রম করতে পারে।
এই সৌর পদার্থ পৃথিবীর কাছে পৌঁছলে তার চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চৌম্বকমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলেই তৈরি হতে পারে ভূচৌম্বকীয় ঝড়।
এই ঝড়ের সময় সূর্য থেকে আসা আধানযুক্ত কণা পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এর ফলে আকাশে তৈরি হতে পারে অরোরা বা মেরুজ্যোতি। ঝড় যত শক্তিশালী হয়, মেরুজ্যোতি তত দূর থেকে অরোরা দেখা যায়। তবে এই দৃশ্য যে দেখা যাবেই, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
কী সমস্যার আশঙ্কা?
ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের প্রভাব শুধু আকাশের আলোর খেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে স্যাটেলাইট, নেভিগেশন ব্যবস্থা, হাই ফ্রিকুয়েন্সি রেডিও কমিউনিকেশন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ঝড়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও প্রভাবিত হতে পারে।
সপ্তাহান্তে অরোরা দেখার সুযোগ
এই সময় মেরু অঞ্চল থেকে আকাশে অরোরা দেখার দেখা যেতে পারে। কারণ, অমাবস্যার কাছাকাছি সময়ে চাঁদের আলো কমবে। রাতের আকাশ অপেক্ষাকৃত অন্ধকার থাকবে। ফলে অরোরার ছবি তোলার জন্য পরিস্থিতি অনুকূল হতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত সৌরঝড় কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা CME-গুলির গতিবেগ, ঘনত্ব এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের দিকের উপর।
পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র কতটা প্রভাবিত হতে পারে, তা বুঝতে বিজ্ঞানীরা সূর্যের সক্রিয়তা এবং পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসা সৌর পদার্থের গতিবিধির উপর নজর রাখছেন।